ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই বছর বন্ধ থাকার পর নৌকা বাইচ উপভোগ করতে তিতাস নদীর দুই ধারে অর্ধলক্ষ মানুষের ঢল নামে।
বাংলা সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১০টি নৌকা ৪টি পর্বে অংশগ্রহণ করে। বাইচ উপভোগ করতে দুপুরের পর থেকেই তিতাস নদীর দুই ধারে অর্ধলক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। গাছের ডাল থেকে শুরু করে বাড়িঘরের ছাদ—বাদ যায়নি কিছুই। দর্শকদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। যেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে সবাই। তিতাস নদীর বুক চিরে বিজয় অর্জনে অদম্য গতিতে ছুটে চলে মাঝি-মাল্লার দল। জারি-সারি গান আর ‘হেঁইও হেঁইও’ রবে যেন মেতে ওঠে চারপাশ। কাশি-করতালের তালে তালে জলরাশিতে বৈঠার আঘাত শান্ত তিতাসকে উত্তাল করে তোলে। এদিকে এ ধরনের উৎসবমুখর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত অংশ নেওয়া মাঝি-মাল্লারাও।
নৌকা বাইচে বিজয়ী হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শাপলা বয়েজ ক্লাব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমুখ।
বিজয়ী ও রানার্সআপ দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। প্রথম স্থান অর্জনকারী দলকে ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ টাকা ও ট্রফি উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বাইচে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
মিলন মিয়া বলেন, ছেলেকে নিয়ে বাইচ দেখতে এসেছি, অনেক ভালো লাগছে। আসলে আমাদের প্রাণের সঙ্গে নৌকা বাইচ মিশে আছে। যেখানেই বাইচ হয়, সেখানেই আমি দেখতে যাই।
সাত্তার মিয়া বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাস নদীতে যেন আবারও প্রাণ ফিরেছে। নদী পরিষ্কার করা হয়েছে, নদীর পাড় পরিষ্কার করা হয়েছে। বাইচ দেখতে পেরে আমরা অনেক খুশি।
বাইচে অংশ নেওয়া মাঝিরা জানান, প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যে উৎসবমুখর আনন্দ হয়েছে, সেটাই মূল বিষয়। আমরা চাই প্রতিবছর এমন আয়োজন থাকুক।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আমরা আনন্দিত যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচের সংস্কৃতি আবারও শুরু করতে পেরেছি। প্রাণের এই উৎসব ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলোতে প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়বে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতি নিয়ে যখন নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, ঠিক এমন সময় নৌকা বাইচের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতির রাজধানী।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-ba202f-720x405.webp)