ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পৃথক প্রশ্নপত্র: জাতীয় শিক্ষার জন্য ভুল বার্তা!

আবদুল্লাহ জামান

আবদুল্লাহ জামান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পৃথক প্রশ্নপত্র: জাতীয় শিক্ষার জন্য ভুল বার্তা!

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এমন কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের সিদ্ধান্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রম করে জাতীয় নীতিতে পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিঃসন্দেহে সেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থী নির্বাচন করে না; এটি দেশের শিক্ষা-দর্শন, মেধা মূল্যায়নের মানদণ্ড এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিরও দিকনির্দেশনা দেয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় ,এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন।

সম্প্রতি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের কাছে এটি হয়তো একটি ছোট প্রশাসনিক সমন্বয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশের অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা, জাতীয় শিক্ষাক্রম (NCTB) এবং সমান প্রতিযোগিতার নীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিজ্ঞাপন

আমার অবস্থানটি হয়তো অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে।যেহেতু আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে।আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারিত হবে।

কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি : একটি অভিন্ন মানদণ্ডের প্রশ্ন

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে, একই পাঠ্যক্রম পড়বে, একই শিক্ষক দ্বারা মূল্যায়িত হবে, একই ডিগ্রি অর্জন করবে—কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ভিন্ন প্রশ্নপত্র?এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যতিক্রম নয়; এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে। সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—"কোন বোর্ডে পড়েছ?" নয়; বরং "বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?"যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।

বিশ্বের কোথাও কি এমন ব্যবস্থা রয়েছে?

যারা পৃথক প্রশ্নপত্রের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে একটি সরল প্রশ্ন—বিশ্বের কোন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় একই ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে?যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীরা A Level, International Baccalaureate (IB), Scottish Highers কিংবা বিদেশি কারিকুলাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্য পৃথক ভর্তি প্রশ্নপত্র তৈরি করে না।যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্যে পঞ্চাশ রকমের স্কুল কারিকুলাম রয়েছে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মূল্যায়নে SAT, ACT কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরীক্ষায় কোনো "স্টেটভিত্তিক" প্রশ্নপত্র নেই।সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া কিংবা কানাডা—কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় বলে না, "তুমি যে বোর্ডে পড়েছ, সেই বোর্ড অনুযায়ী আমরা প্রশ্ন বদলে দেব।"কারণ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের ধারাকে নয়, শিক্ষার্থীর সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করে।

বিপজ্জনক নজির

আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে।তাদের যুক্তিও হবে—"আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।"এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।আন্তর্জাতিক ব্যাকালোরিয়েট (IB) শিক্ষার্থীরাও দাবি করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কি তখন প্রত্যেক শিক্ষাধারার জন্য আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্র তৈরি করবে?

বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের (Psychometric Validation) প্রশ্ন

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পৃথক প্রশ্নপত্র চালু হলে ভর্তি পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতার (Psychometric Soundness) প্রায় প্রতিটি মৌলিক ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ (High-Stakes) ভর্তি পরীক্ষায় কেবল দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করলেই হয় না; বরং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে হয় যে উভয় প্রশ্নপত্র একই সক্ষমতা (Construct) পরিমাপ করছে এবং উভয়ের ফলাফল সমানভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। অন্যথায় পরীক্ষার Validity (বৈধতা), Reliability (নির্ভরযোগ্যতা), Fairness (ন্যায্যতা), Comparability (তুলনাযোগ্যতা), Measurement Invariance (বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে একই সক্ষমতা পরিমাপের সামঞ্জস্য), Differential Item Functioning (DIF) বা প্রশ্নভিত্তিক পক্ষপাত বিশ্লেষণ, Test Equating (ভিন্ন প্রশ্নপত্রের ফলাফলকে একই স্কেলে রূপান্তর) এবং Standard Setting (যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ)এসব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল্যায়ন মানদণ্ডই গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থার কারিগরি ও সাইকোমেট্রিক গুণগত মান (Technical and Psychometric Quality) বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক।

বিশ্বের যেসব আন্তর্জাতিক পরীক্ষা একাধিক প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে, তারা এসব বিষয়ে বহুস্তরীয় সাইকোমেট্রিক বিশ্লেষণ, আইটেম ক্যালিব্রেশন, অ্যাঙ্কর আইটেম, ইকুয়েটিং এবং স্বাধীন কারিগরি যাচাই সম্পন্ন করে তবেই ফলাফল প্রকাশ করে। বাংলাদেশে যদি এসব বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ছাড়া কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পৃথক প্রশ্নপত্র চালু করা হয়, তাহলে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং জনআস্থা সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

NCTB-এর জন্য এটি একটি নীতিগত আঘাত

বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম কেবল একটি পাঠ্যক্রম নয়; এটি রাষ্ট্রের শিক্ষা-দর্শনের ভিত্তি।যখন দেশের সর্বোচ্চ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত ঘোষণা করবে যে জাতীয় কাঠামোর বাইরে থাকা একটি শিক্ষাধারার জন্য বিশেষ প্রশ্নপত্র প্রয়োজন, তখন অভিভাবকদের কাছে কী বার্তা পৌঁছাবে?

বার্তাটি হবে জাতীয় শিক্ষাক্রম যথেষ্ট নয়।এটি NCTB-এর প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত কখনো কখনো হাজার বিজ্ঞাপনের চেয়েও বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে।

শিক্ষা নাকি বাজার?

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বোর্ড পরিচালনা করে বিদেশি প্রতিষ্ঠান।প্রতি বছর পরীক্ষা ফি, বই, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়।এটি স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ।কিন্তু রাষ্ট্র যদি এমন নীতি গ্রহণ করে, যার ফলে বিদেশি কারিকুলামের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়, তাহলে সেই নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করাও জরুরি।এখানে প্রশ্নটি কোনো ষড়যন্ত্রের নয়।প্রশ্নটি হলো নীতিটি কাদের জন্য প্রণোদনা (incentive) তৈরি করছে? কে লাভবান হবে? জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা, নাকি আন্তর্জাতিক শিক্ষা-ব্যবসার বাজার? যে কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের উচিত এ ধরনের নীতির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা।

সমতার সাংবিধানিক দর্শন

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের সমান সুযোগের কথা বলে।সমান সুযোগ মানে সবার জন্য আলাদা মানদণ্ড নয়।বরং একই প্রতিযোগিতায় একই মানদণ্ড।যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দরজা এক হয়, তবে সেই দরজার চাবিও এক হওয়া উচিত।

সমাধান কী?

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের কিছু বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান কখনোই পৃথক প্রশ্নপত্র প্রবর্তন হতে পারে না।ভর্তি পরীক্ষায় সমতার নীতি অক্ষুণ্ণ রেখেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব।বরং নীতিনির্ধারকদের উচিত:

• ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা।

• প্রশ্নের ভাষা ও নির্দেশনা আরও নির্ভুল ও দ্ব্যর্থহীন করা।

• পর্যাপ্ত নমুনা প্রশ্ন (Sample Questions) ও পরীক্ষার কাঠামো প্রকাশ করা।

• মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও বৈজ্ঞানিক, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত করা।

• সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করা।

• জাতীয় ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমের মধ্যে বিদ্যমান দক্ষতার ব্যবধান কমাতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সংস্কার গ্রহণ করা।

রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা

বাংলাদেশের শিক্ষা নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যাতে দেশের অভিভাবকদের বিদেশি কারিকুলামের দিকে ঝুঁকতে না হয়। একটি রাষ্ট্র কখনো নিজের শিক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প শিক্ষাধারাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজে না; বরং নিজের ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলে।

রাষ্ট্রের শিক্ষা নীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন। শিক্ষক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম, আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, ভাষা দক্ষতা এবং শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। জাতীয় শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী না করে বিকল্প শিক্ষাধারাকে নীতিগত সুবিধা দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নতুন নতুন সুবিধা সৃষ্টি করা নয়; বরং এমন একটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে NCTB-এর একজন শিক্ষার্থীও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

রাষ্ট্র যদি সত্যিই শিক্ষা খাতে বৈষম্য কমাতে চায়, তাহলে সমাধান হবে জাতীয় শিক্ষাক্রমকে আরও শক্তিশালী করা এর মান, শিক্ষকতা, পাঠ্যবই, ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। কারণ একটি শক্তিশালী জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি।

শেষ কথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মেধার সর্বজনীন প্রতীক।এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত শিক্ষার্থীদের উৎস নয়, যোগ্যতা মূল্যায়ন আজ যদি আমরা ভর্তি পরীক্ষার মানদণ্ড ভেঙে ফেলি, আগামীকাল হয়তো জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অভিন্ন ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

আমি জানি, এই সিদ্ধান্তে আমার প্রতিষ্ঠানসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমে পরিচালিত অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বল্পমেয়াদে উপকৃত হতে পারে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ বাড়তে পারে, বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে।

কিন্তু একজন শিক্ষক এবং দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আরও বড় একটি সত্য জানি, কোনো নীতি যদি একটি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে, তবে সেই সাময়িক লাভের কোনো মূল্য নেই। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেওয়াই একজন নাগরিকর নৈতিক দায়িত্ব।কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য তখনই অর্থবহ, যখন তা পুরো জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে; দুর্বল করে নয়।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জাতীয় চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব এবং নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় স্বার্থ, শিক্ষার মান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দূরদর্শী ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটেও এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক, যা সাময়িক সুবিধার পরিবর্তে দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

লেখক: প্রিন্সিপাল

উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (WIS) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (GIS)

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন