শিবচরে গৃহবধূ ও শিশুহত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শিবচরে গৃহবধূ ও শিশুহত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মাদারীপুরের শিবচরে গৃহবধূ শাম্পা খাতুন ও তার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবির হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের ভেলি ব্রিজ বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তি, দ্রুত বিচার এবং নিখোঁজ শিশু আবিরের লাশ দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন মামলা পরিচালনা না করেন এমন দাবিও তোলেন তারা।

বক্তারা বলেন, শাম্পা খাতুন ও তাঁর শিশুপুত্রকে যেভাবে নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অপরাধীরা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অপরাধে উৎসাহিত হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, ওই নারী নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা শাম্পা খাতুন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, আদালতে একটি মামলার সূত্র ধরে শাম্পা খাতুনের সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই পরিচয়ের সূত্রে শাম্পাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।পুলিশের দাবি, শাম্পার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকেও হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানকালে ফারুকের বাসা থেকে নিহত শাম্পা খাতুনের স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, জুতা এবং আংশিক পোড়া একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে ফারুকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ শিশু আবিরের লাশ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন