১০ দাবিতে নতুন কর্মসূচি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের

১০ দাবিতে নতুন কর্মসূচি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের
ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং চাকরি জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রচলিত নিয়ম ও বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রদান; বৈষম্য নিরসনে চাকরি জাতীয়করণ; দ্রুত বদলির ব্যবস্থা; শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান; শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ চালু; স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তকরণ; ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ; চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ; এবং নৈশপ্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটি ও দ্বিতীয় নৈশপ্রহরী নিয়োগের ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কল্যাণ-অবসর সুবিধা বোর্ড নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আগামী ১৫ আগস্ট কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ৪৪ হাজার আবেদনকারীর প্রত্যেককে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা এককালীন প্রদান করতে যাচ্ছে। অথচ আগে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বশেষ বেতনের ২৫ মাসের সমপরিমাণ এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে ৭৫ মাসের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের শুধু জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার আশঙ্কাও শোনা যাচ্ছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরির একটি কৌশল বলে মনে করছেন তিনি।

জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছেন এবং আগামী চার বছরে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি কল্যাণ-অবসরের জন্য ২০০ কোটি টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এতে শিক্ষক সমাজ সরকারের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠছে বলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূক্ষ্ম কৌশলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১০ সালের ১২ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিনিধিদের সমাবেশে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একই আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হতে চললেও জাতীয়করণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো ঈদুল আজহার আগে ঘোষিত ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ হলে শিক্ষা খাতে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। তবে জাতীয়করণের আগে ১০ দফা দাবি আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়—আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে; সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিভাগীয় সমাবেশ করে দাবির পক্ষে জনমত গঠন করা হবে; এবং দলমত-নির্বিশেষে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন মতিউর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন জসিম উদ্দিন আহমদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, মো. আলী, নূর মোহাম্মদ খোকন, হাসিম তালুকদার, লুৎফর ইসলাম, জসিম উদ্দিন, ইউসুফ ও ঝর্ণা বিশ্বাসসহ সংগঠনের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন