মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসব, পাসের ৯৮.০২ শতাংশ

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসব, পাসের ৯৮.০২ শতাংশ

দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায় অন্যরকম এক উৎসবমুখর পরিবেশ। এসএমএসের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার পর গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে স্কুলে ছুটে আসেন। তাদের বরণ করে নিতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন স্কুলের স্কাউট সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, মিষ্টিমুখ এবং সেলফি তোলার মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সাদি আল তাসবির জানান, ভবিষ্যতে তিনি ইঞ্জিনিয়ার হতে চান।

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া জারিফ হাসান মা তাহমিনাকে নিয়ে কলেজে আসেন। তিনি বলেন, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি গোছানোভাবে নিয়েছিলেন, প্রথমে কিছুটা ভয় থাকলেও প্রতিটি পরীক্ষাই ভালো হয়েছে, তাই আনন্দ ভাগাভাগি করতেই মাকে নিয়ে এসেছেন। একইভাবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া তাহমিদ হাসান বাবা ডা. কুদরতে হাসান রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসেন এবং সৃষ্টিকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দুপুর ১টা ১০ মিনিটে স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি জানান, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.০২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে এবার মোট ২ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৭৭৮ জন। অনুপস্থিত ছিল চারজন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২ হাজার ৫৪১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৪১ জন।

সন্তানদের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। অভিভাবক জিপিএ-৫ পাওয়া তাহমিদ হাসান বাবা ডা. কুদরতে হাসান রুবেল জানান, সকালের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুশ্চিন্তা ফল প্রকাশের পর এক মুহূর্তে আনন্দ ও স্বস্তিতে বদলে গেছে। আরেক অভিভাবক নাসরিন বলেন, সন্তানদের দিনরাতের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের আনন্দ। সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফল প্রকাশের পরপরই রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের উল্লাস ও অভিভাবকদের স্বস্তির দৃশ্য দেখা যায়।

দেশজুড়ে সামগ্রিক ফলাফল ও পরিসংখ্যান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাধারণ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ। সারা দেশে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। তবে গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৯ হাজার। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ।

এছাড়া দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬,১৭৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩,৯৫১ জন। অন্যদিকে, সারা দেশে এবার সব মিলিয়ে ফেল করেছেন প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী। বিগত বছরের তুলনায় পাসের হার ও শীর্ষ ফলাফলের এই তারতম্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন