লন্ডনে প্রবাসী সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের মিলনমেলা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

লন্ডনে প্রবাসী সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের মিলনমেলা

প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলা গণমাধ্যম ও সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনাগুলো—এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন লন্ডনে আয়োজিত ‘ঈদসংখ্যা সংস্কৃতি: বাঙালির উৎসব ও সৃজনধারা’ শীর্ষক আলোচনা সভার বক্তারা।

তারা বলেন, ঈদসংখ্যা শুধু উৎসবকেন্দ্রিক প্রকাশনা নয়; এটি বাঙালির সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারক ও বাহক।

বিজ্ঞাপন

লন্ডনভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম বাংলামেইলের উদ্যোগে বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভা রূপ নেয় প্রবাসী সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা, ঈদসংখ্যার ঐতিহ্য, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির সংযোগ এবং সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসনের সভাপতিত্বে এবং বাংলামেইল সম্পাদক সৈয়দ নাসির আহমেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ফরিদ আহমদ রেজা। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মাহবুব মোহাম্মদ।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, “ঈদসংখ্যা বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ। যুগ যুগ ধরে ঈদসংখ্যা আমাদের সাহিত্যিক আবেগ, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করে আসছে। প্রবাসে থেকেও বাংলামেইল যেভাবে এই ধারা ধরে রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ফরিদ আহমদ রেজা বলেন, একটি মানসম্মত ঈদসংখ্যা কেবল পাঠকের বিনোদনের জন্য প্রকাশিত হয় না; এটি সময়ের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার একটি মূল্যবান দলিল হয়ে ওঠে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই প্রকাশনার মাধ্যমে একটি সময়ের সৃজনধারা ও সমাজচিত্র সম্পর্কে জানতে পারে।

মূল প্রবন্ধে কবি মাহবুব মোহাম্মদ বলেন, ঈদসংখ্যা বাঙালির সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র। এই ধারার মাধ্যমে বহু নতুন লেখক, কবি, গবেষক ও চিন্তাশীল মানুষের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলা সাহিত্যের বিকাশে ঈদসংখ্যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা ধরে রাখা সহজ কাজ নয়। নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে সাহিত্যভিত্তিক এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাংলামেইল সেই দায়িত্ব অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছে।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সৈয়দ নাসির আহমেদের সম্পাদনায় বাংলামেইলের ঈদসংখ্যা একটি সমৃদ্ধ ও নান্দনিক প্রকাশনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, সমাজের সাংস্কৃতিক ভিতকেও শক্তিশালী করে। বাংলামেইলের এই আয়োজন প্রমাণ করে, প্রবাসী গণমাধ্যমও সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কবি আহমদ ময়েজ বলেন, ঈদসংখ্যা আমাদের সাহিত্যিক আবেগ ও নস্টালজিয়ার একটি বড় অংশ। বাংলামেইল সেই আবেগকে আধুনিক উপস্থাপনায় নতুনভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে।

কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের বলেন, ব্রিটেনে বাংলামেইলের মতো এত সমৃদ্ধ ঈদসংখ্যা আগে প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটি প্রবাসী বাংলা সংবাদমাধ্যমে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুজিবুল হক মনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া কোনো কমিউনিটি সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সহায়তা করবে।

‘সময়’ সম্পাদক সাঈদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে সাহিত্যভিত্তিক মানসম্পন্ন প্রকাশনা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বাংলামেইলের ঈদসংখ্যা সেই শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করেছে।

এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ ও গল্পকার সায়েম চৌধুরী বলেন, ব্রিটেনে এই প্রথম এত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য বাংলামেইল বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার।

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। সাহিত্যচর্চা টিকিয়ে রাখতে ঈদসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দ্য সানরাইজ টুডের সম্পাদক এনাম চৌধুরী বলেন, প্রবাসে সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়। বাংলামেইল সাহসিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে সেই কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উদয় সংকর দুর্জয়, আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, ইমরান আহমদ, রেজাউল করিম মৃধা, রিয়াদ রায়হান, কবি সৈয়দ ফরহাদ, সৈয়দ জাবিরসহ প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বাংলামেইলের প্রকাশিত ঈদসংখ্যার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিদের সৌজন্যে ঈদসংখ্যা প্রদর্শন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...