পরীমণির জন্মদিন: জাঁকজমক থেকে প্রশান্তির ছোঁয়া

পরীমণির জন্মদিন: জাঁকজমক থেকে প্রশান্তির ছোঁয়া

একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্মদিন মানেই ছিল তারকাখচিত ও বর্ণাঢ্য আয়োজন। অভিজাত পাঁচতারামী হোটেলে আলোকসজ্জা, ব্যতিক্রমী থিম আর জমকালো কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই চেনা চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৩ সালে নিজের প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকেই বড় পরিসরে জন্মদিনের উৎসব করার ঝোঁক কমে গেছে এই অভিনেত্রীর। এবারও তার জন্মদিনে থাকছে না কোনো জাকজমকপূর্ণ আয়োজন; বরং কাছের মানুষদের নিয়ে এক শান্ত সন্ধ্যা কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিউলিসন্ধ্যা’।

গণমাধ্যমকে পরীমণি জানান, জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে। বর্তমানে সন্তান ও ক্যারিয়ারই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিতে চান তিনি।

বিজ্ঞাপন

জন্মদিন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা প্রকাশ করে এই নায়িকা বলেন, “প্রতিবছরই আমি জীবনকে নতুন করে দেখি। নতুন করে বাঁচি। কাজের মধ্যে এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে শান্তি ও আনন্দ খুঁজি।” এবারের জন্মদিনে তার একমাত্র চাওয়া শান্তি এবং ভুয়া মানুষ ও কৃত্রিম বন্ধুত্ব থেকে মুক্তি। তার ভাষ্য, বন্ধুর সংখ্যা কম হলেও কোনো সমস্যা নেই, যদি তারা সত্যিকারের বন্ধু হয়।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জন্মদিনের প্রথম মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন পরীমণি। ভিডিওতে লাল রঙের গাউন পরে কেক কাটতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার পাশে ছিল ছেলে পুণ্য ও মেয়ে প্রিয়ম। কেক কাটার ঠিক ওই মুহূর্তে দুই সন্তান মাকে চুমু দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করলে আয়োজনটি এক আবেগঘন রূপ নেয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যাপি বার্থডে টু মি!’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন লাল হৃদয় ও ফুলের ইমোজি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ করছেন পরীমণি। ছোটবেলায় বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এ নাচ শেখার অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তার অভিনয়জীবনে কাজে লেগেছে। পরবর্তীতে ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় পরিচিতি পান তিনি।

২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ক্যারিয়ারের শুরুতেই একসঙ্গে প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তী সময়ে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ এবং চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’-র মতো প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে সন্তান ও কাজের মাঝেই নিজের প্রশান্তি খুঁজে নিচ্ছেন জনপ্রিয় এই তারকা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন