জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক ইউনিট। এছাড়া কারো সঙ্গে পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল বাশার তালুকদার। তিনি পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলির ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পেছনের মূল কারণ কী, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল সেন্টার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে আসিফ আকবরের ‘ঢাকা মেট্রো-গ-১৯-২৭৭৭’ নম্বরের ব্যক্তিগত গাড়িটি পার্ক করা ছিল। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সিএনজিতে করে এসে গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোড়ে। ঘটনার সময় আসিফ আকবর বিশাল সেন্টার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজের অফিসে অবস্থান করছিলেন; ফলে গাড়িতে তিনি না থাকায় অক্ষত রয়েছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আসিফ আকবর ও তার এক বন্ধুর উপস্থিতিতে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ, যা জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। তবে এই হামলার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। কী কারণে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি এবং আসিফ আকবর নিজেও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। গাড়িটি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং গাড়ি থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার সময় গাড়িতে কেউ না থাকায় বড় ধরনের কোনো বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন শিল্পী। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

