‘বান্নাহর সাথে আছি’ হ্যাশট্যাগে সয়লাব ফেসবুক

রাষ্ট্রপতিপুত্রের হুমকি থোড়াই কেয়ার বান্নাহর

বিনোদন রিপোর্টার

রাষ্ট্রপতিপুত্রের হুমকি থোড়াই কেয়ার বান্নাহর

দেশের তাবৎ সংস্কৃতিকর্মী যখন পলাতক ফ্যাসিস্টের ফেরানোর পাঁয়তারায় লিপ্ত তখন একের পর এক জুলাইকেন্দ্রিক গল্প উপহার দিচ্ছেন নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। এর আগে বানিয়েছেন নাস্তা ও লাঞ্চ নামের দুটি জুলাই ফিকশন। যাতে ফুটে উঠেছে ফ্যাসিস্টের ভয়াবহ লুটপাট, গুম, খুন এবং ২০২৪-এর জুলাইতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও শেষ সময়ে স্বৈরাচারের পলায়ন।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদে মুক্তি পায় হেলমেট বাহিনী নামের একটি নাটক। যা প্রযোজনা ও নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ। হেলমেট বাহিনী নাটকে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এক সহ-সভাপতির গল্প বলা হয়েছে। যাকে দেখা যায়, আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের উপর হামলা করা সেই সহ-সভাপতি কীভাবে নতুন রূপে ফিরে আসে।

বিজ্ঞাপন

নাটকটি মুক্তির পর ফ্যাসিবাদী শিল্পীদের মাঝে ক্ষোভ ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় হুমকি দিতে দেখা গেছে। তমাল মাহবুব নামের এক অভিনেতা ফেসবুকে লেখেন, ‘মাবরুর রশীদ বান্নাহ, নামটা আমাদের মন আর মগজে গাঁইথা আছে। সময়মতো হিসাব নিকাশ ক্লিয়ার হবে।’ হাসিনা ফিরলে বান্নাহর উপর অত্যাচারের ইঙ্গিত করে দেওয়া পোস্টে কমেন্টের ঘরে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছেলে প্রযোজক আরশাদ আদনান লেখেন, ‘তমাল, আরো অনেক নাম আছে মনে আর মগজে।’ মাবরুর রশীদ বান্নাহর মতো আরো যারা বিনোদন জগতে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তাদের তালিকা করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন আরশাদ আদনান। যদিও তুমুল সমালোচনার মুখে কমেন্ট ডিলেট করে দেন আরশাদ আদনান।

কমেন্ট ডিলেট করার আগেই তমাল আর আরশাদ আদনানের লেখার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। জুলাই যোদ্ধারা ‘স্ট্যান্ড উইথ মাবরুর রশীদ বান্নাহ’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে বান্নাহর পাশে দাঁড়ান। ১৪০০ শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে এসএসএফের প্রটোকল নিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের এত বড় হুমকি দেওয়ার সাহস আরশাদ আদনান কোথায় পেলেন, এমন প্রশ্ন তোলেন তারা। হুমকির বিষয়ে মুখ খুলেছেন স্পষ্টভাষী নির্মাতা বান্নাহ।

তার ভেরিফায়েড আইডিতে লেখেন, “শুনুন, বাংলাদেশপন্থি ভাই ও বোনেরা। জুলাই স্পিরিটে বিশ্বাসী আমার সহযোদ্ধারা …। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আপনাদের মানুষ নেই বললেই চলে। যা আছে, সেগুলোকে অনেকে প্রায়ই ‘মুরগির গিলা-কলিজা’ এসব বলে থাকেন । আমি কথাগুলো পুরোপুরি অস্বীকারও করব না। কিন্তু এর মানে এই না যে আমরা পিছিয়ে থাকব। আমি পারলে, ভাই আপনিও পারবেন। বিশ্বাস রাখেন এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা শুরু করেন। এটাই প্রথম কাজ, নিজের ভেতরে বিশ্বাস রোপণ করা। তারপর সেই বিশ্বাসের বৃক্ষকে বিশাল হতে দেওয়া, ডালপালা ছড়িয়ে প্রখর ও প্রগাঢ় করে তোলা। এরপর নিজের জায়গা করে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়া।”

বান্নাহ আরো লেখেন, “আমি যখন এই অঙ্গনে ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমার পূর্ববর্তী আটাশ পুরুষের কেউই মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবু আমি এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলাম। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ছিল, নিজের নিয়তের ওপর বিশ্বাস ছিল, নিজের কঠোর পরিশ্রমের ওপর বিশ্বাস ছিল। বিশ্বাস ছিল ‘সাফল্য আসবেই’। শুধুই নিজের ওপর প্রবল বিশ্বাস থেকেই এই পর্যন্ত । তবে অবশ্যই এবং অবশ্যই আজ আমি যতটুকু এসেছি, তার জন্যও আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এবার শুনুন, আমাদের মতো মানুষ শুধু বিশ্বাস দিয়েই অনেক কিছু জয় করতে পারে। আপনারাও অনেক কিছু জয় করেছেন। প্রমাণ দিই । ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলন। খালি হাতে প্রবল পরাক্রমশালী, বর্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন আপনারাই। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল, সবকিছুর শুরু বিশ্বাস থেকে। আর অবশ্যই, আমি আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। চলে আসেন, আমার ভাই ও বোনেরা। বিশ্বাস রাখেন, আপনাদের দিয়ে সব সম্ভব।”

ডা. মো. নূর উদ্দিন নামে একজন বান্নাহর পাশে দাঁড়িয়ে লিখেছেন, “মাবরুর রশীদ বান্নাহ ভাইয়ের ‘হেলমেট বাহিনী’ জুলাইকে নিয়ে নির্মিত একটি নাটক। গল্পের গভীরতা কম হলেও জেন-জির ভাষায় অন্যায়ের প্রতিবাদকে হাইলাইট করা হয়েছে। বিবেকের দংশনে ভালো হয়ে যাওয়ার আবেগের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। নিজস্ব অবস্থান থেকেই অন্যায়ের প্রতিরোধ করার দৃশ্য প্রতিফলিত হয়েছে।”

ইসলামি গানের গীতিকার কবি আতিফ আবু বকর লিখেছেন, “জুলাই বিপ্লবে নাটক সিনেমার ফিগার বলতে তেমন কেউ আসে নাই। কিছু যারা এসেছিল তাদের গুটিকয়েক ছাড়া অনেকেই নীরব এখন। তবে সেই জুলাই থেকে আজ অব্দি মাবরুর রশীদ বান্নাহ জুলাই নিয়ে মেতে আছেন। এটা তার সাহস সদিচ্ছার প্রকাশ। স্বভাবতই এ কারণে ফ্যাসিনার দুধখোররা বান্নার উপর ক্ষিপ্ত। নাটক সিনেমা নভেল ছাড়া জুলাইয়ের স্পিরিট ধরে রাখা কঠিন হবে। এই কঠিন কাজটা করে যাচ্ছে যারা আমরা তাদের পাশে আছি। সাথে আছি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রিজওয়ান শেখ লিখেছেন, “রাষ্ট্রপতির ছেলে যে এসএসএফ-এর প্রটোকলে থেকে ‘লিস্ট’ বানাচ্ছে এবং পাবলিকলি সেটার ঘোষণা দিচ্ছে, সরকার কি এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেবে? সরকারি প্রটোকলে থেকে লিস্ট বানানো তো আরো সহজ। তালিকা তো আগের আছেই। এখন আরো তালিকা যুক্ত করা গেল। প্রস্তুত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা। এই গেল এক আলাপ। আরেকটা হইল, এই তালিকা করার উদ্দেশ্য কী? বিএনপি জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির বিচার করবে? ইনক্লুডিং বিএনপি? তা তো না, তাহলে? আওয়ামী লীগ ফিরে আসার অপেক্ষা। আওয়ামী লীগ ফিরে এলে এগুলোর বিচার হবে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে যে এখনো রাষ্ট্রপতি রেখে দিলেন, এর ভয়াবহতা চিন্তা করেছেন?”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...