জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের সিনেমার নন্দিত ও এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সূচরিতা দীর্ঘদিন ধরেই নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না। বিগত বেশ কয়েক বছরে তার কাছে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসলেও গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় তিনি সায় দেননি।
সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে ‘আজীবন সম্মাননা’ গ্রহণের প্রস্তাব পেলেও তা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন এই অভিনেত্রী।
নতুন সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, ‘একজন নায়িকা হিসেবে আমি বহু সিনেমায় অভিনয় করে এ দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। পরবর্তীতে অনেক সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। দর্শক আমাকে নায়িকা হিসেবে যেমন গ্রহণ করেছিলেন, ঠিক তেমনি একজন চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও আপন করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এসে আমাদের মতো শিল্পীদের নিয়ে কেন সিনেমা নির্মিত হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। একটা সময় একই সিনেমায় বহু শিল্পীর সমন্বয় থাকতো। এখন কেন তা হচ্ছে না জানা নেই। আমার মনে হয়, সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীদের নিয়ে চমৎকার পারিবারিক গল্পের সিনেমা নির্মাণ করলে এখনো তা দর্শক দেখবেন।’
পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে দৈনিক আমার দেশকে এই গুণী অভিনেত্রী জানান, ‘আমার কাছে প্রায়ই বিভিন্ন সংগঠন থেকে আজীবন সম্মাননার জন্য ফোন আসে। আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার এবং প্রযোজক-পরিবেশক পুরস্কারের বাইরে অন্য কোনো পুরস্কার নিয়ে কখনো ভাবিনি। যদিও প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির পুরস্কার দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। তবে এর বাইরে আর কোনো পুরস্কার প্রাপ্তির প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে বাচসাস এবং ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রথা চালু হয়। এই দুটি সম্মাননায় ভূষিত হলে একজন শিল্পীর আর কোনো বিশেষ স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে কি না—সে বিষয়ে না-ই বা গেলাম। সত্যি বলতে, পারফেক্ট দু-একটা পুরস্কারই যথেষ্ট। আর আমি এখনো ভালো গল্প ও সুন্দর চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, তা না হলে শুধু শুধু অভিনয় করার প্রয়োজন নেই।’
উল্লেখ্য, আজ থেকে ৫৪ বছর আগে, দেশ স্বাধীনের পরবর্তী বছর ১৯৭২ সালের ২২ ডিসেম্বর ‘স্বীকৃতি’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে সূচরিতার অভিষেক হয়। ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ৩০টি সিনেমার মধ্যে ‘ওরা ১১ জন’, ‘নিজেরে হারায়ে খুঁজি’, ‘লালন ফকির’, ‘চৌধুরী বাড়ি’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’, ‘অবুজ মন’, ‘অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘কাঁচের স্বর্গ’ ও ‘রক্তাক্ত বাংলা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
নায়িকা হিসেবে অভিষেকের আগে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘বাবলু’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—'ডাকু মনসুর’, ‘সমাধি’, ‘তাল বেতাল’, ‘আপনজন’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘আসামী’, ‘মহেশখালীর বাঁকে’, ‘তুফান’, ‘নদের চাঁদ’, ‘কাজল লতা’, ‘বদলা’, ‘দি ফাদার’, ‘নাগর দোলা’, ‘কথা দিলাম’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘কলমীলতা’, ‘লাল সবুজের পালা’, ‘জীবন নৌকা’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সন্ধি’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘আঁখি মিলন’ ইত্যাদি।
সূচরিতা ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ ও ‘মেঘকন্যা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডে সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-bb2ebf-720x405.webp)