রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি আবাসিক ভবনের গ্যারেজ থেকে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের তিনটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত টাকা দিয়ে গ্যারেজ ভাড়া নিলেও চুরির পর ভবন মালিকপক্ষ কোনো দায় নিতে রাজি হচ্ছে না। উল্টো বাড়ির মালিকদের রহস্যজনক আচরণ এবং দারোয়ানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চুরির পেছনে তাদের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ৪০, তারিখ: ২০/০৮/২০২৬)। শিমুল হোসাইন ‘ভয়েস অব ডেমোক্রেসি’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট রাত ১১টার পর থেকে ১৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুর মডেল থানাধীন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৬৫২ নং ‘গোলাপবানু টাওয়ার’ নামের আবাসিক ভবনের গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল তিনটি চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো ভুক্তভোগীরা সেখানে তাদের বাইকগুলো লক করে রেখেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে গ্যারেজে গিয়ে তারা দেখতে পান বাইকগুলো গ্যারেজে নেই।
চুরি হওয়া তিনটি মোটরসাইকেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে:
সাংবাদিক শিমুল হোসাইনের কালো রঙের ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-২মোটরসাইকেল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। রিফাত আলম ফরহাদের কালো রঙের সুজুকি মনোটন ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। এবং কাজী নেছার আহম্মেদের কালো রঙের পালসার এন-১৬০ মোটরসাইকেল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা নিয়মিত ভাড়া দিয়ে ভবনের গ্যারেজ ব্যবহার করতেন। কিন্তু চুরির ঘটনার রাতে গ্যারেজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দারোয়ান মো. আব্দুল মান্নান ঘুমিয়ে ছিলেন এবং চুরির ঘটনার পর থেকেই তাকে আর কর্মস্থলে দেখা যায়নি।
এজাহারে আরও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, দারোয়ান আব্দুল মান্নানের পাশাপাশি বাড়ির মালিক নূর আলম, আকরাম এবং আকবর -এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় অজ্ঞাতনামা চোরচক্র এই চুরির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। চুরির পর ভবন মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। বাড়ির মালিক নূর আলম দায় অস্বীকার করে বলেন, চুরি হয়েছে তো কী করব।
এক ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক ও দারোয়ানকে অভিযুক্ত করে বলেন, সকালে গ্যারেজ থেকে তিন বাইকের লক ভেঙে চুরি করে নিয়ে গেলো অথচ দারোয়ান বা কেউ এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানান তারা, আর তাদের কাছে বাইক নিখোঁজ হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বাড়ির মালিকেরা এর দায় নিতে অস্বীকার জানান ও আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আমি কিস্তিতে বাইক নিয়েছিলাম, এখনও সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারি নাই। দ্রুত আমার বাইক উদ্ধারের হোক এটাই চাই আমি।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চুরির সাথে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ ও বাইক উদ্ধারের কাজ চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


