রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিদর্শক নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা এ অভিযোগ জানান।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরে একটি চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় নিয়ে আসেন নিহার রঞ্জন। সাব্বির হাসানের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা থানায় গেলে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে কালবেলার ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি বলেন, এসআই নিহার রঞ্জন তাকে বলেন, ‘ওসি বা কমিশনারের কথা শোনার সময় আমার নেই। এখানে যে সাংবাদিক আসবে, তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ভেতরে আসতে হবে।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা উচ্চস্বরে কথা বলে সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।
রেজওয়ান রনি বলেন, এসআই নিহার রঞ্জন তাকে থানা থেকে চলে যেতে বলেন এবং জানান, গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে না এলে থানার ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। পরে তিনি সহকর্মী সাংবাদিকদের থানায় ডাকেন।
আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল একেএম সুমন মিয়া বলেন, সাংবাদিক রেজওয়ান রনির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই নিহার রঞ্জন তার কাছেও আইডি কার্ড দেখতে চান এবং আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকদের থানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।
দৈনিক খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক যুবককে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার রঞ্জন। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন। পরে কালবেলার রেজওয়ান রনি ভিজিটিং কার্ড দেখানোর পরও তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হয়।
কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার খুশবু হাসান রনি বলেন, সাংবাদিককে কেন হেনস্তা করা হচ্ছে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি কোনো সাংবাদিককে হেনস্তা করেননি। তবে তার কথাবার্তায় অসৌজন্যমূলক আচরণ ছিল।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম নাজমুল কাদের বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের পর এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

