আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দুই অভিনেত্রীর ‘থাপ্পড়’ কাণ্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘের কড়াবার্তা

বিনোদন রিপোর্টার

দুই অভিনেত্রীর ‘থাপ্পড়’ কাণ্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘের কড়াবার্তা

তানজিন তিশাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নাটকের আরেক অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া দাবি করেন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চড় মেরেছেন তানজিন তিশা।

লাইভে তিনি বলেন, ‘আজ (৩ মার্চ) আমার শেষ শট ছিল। সিনে (দৃশ্য) তিশা আপুকে চড় দেওয়ার দৃশ্য ছিল। টেকনিক্যালি আস্তে করে তার গালে হাত লাগিয়েছি। কিন্তু সে সিনের মধ্যে আমাকে জোরে জোরে চড় মেরেছে। আমার চোখ ফুলে গেছে, কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। এটা সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছে।’

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড়! এর মধ্যে গতকাল রাতেই বিবৃতি দিয়েছে ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ।

দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে সংগঠনটি লিখেছে, ‘কোনো সদস্যের সাথে কোনো প্রকার জটিলতা বা মতভেদ সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অবহিত না করে উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের আচরণবিধির পরিপন্থী।’

অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ভাষ্য, ‘এহেন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া উচিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কেননা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা একতরফাভাবে উপস্থাপিত হলে তা একদিকে যেমন সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে পারে। উল্লেখিত ক্ষেত্রে কোনো সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। কেননা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করে, দোষী যে-ই হোন না কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রায়াল’ বা জনমতের আদালত তৈরি না করে বা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার না করে, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

সামিয়া অথৈ লাইভে বলেন, ‘প্রথম দিনের শুটিং ছিল। তানজিন তিশা আপুর জন্য একটা সুন্দর উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে গ্রহণ করেনি। প্রথম সিন শুরু করতে গিয়েই সে আমাকে এমনভাবে মারে যে আমার হাত রক্তাক্ত হয়ে যায়। মনিটরে দেখে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই ও রিংকু ভাই জানতে চাইল— তোমাকে এভাবে মারল কেন?’

লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে যখন মুশফিক ফারহানের সঙ্গে নাটকে কাজ করতাম, তখন তিশা আপু আমাকে ফোন দিয়ে থ্রেট দিয়েছিল— ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে পারবে না। কেন পারব না জানতে চাইলে সে বলেছিল, ‘ফারহান আমার জামাই হয়।’ বিষয়টা আমি ফারহানকে জানিয়েছিলাম। এটা এক-দুই বছর আগের ঘটনা। শুধু আমাকেই নয়, কেয়া পায়েলসহ অনেককেই এমন থ্রেট দিয়েছে।’

এদিন রাতেই এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খোলেন তিশা। তিনি দাবি করেন, চরিত্রের প্রয়োজনে চড় মেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর মুক্তি পেলে কাজটা দেখবেন। তখন আপনারা দেখতে পারবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।’

নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদার বলেন, ‘নাটকের একটি দৃশ্যে চড় ছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি রাখা হয়। দুজন দুজনকে আস্তে করে চড় দিতে গিয়েই হয়তো কেউ বলেছে, জোরে লেগেছে। দুজন দুজনকে চড় দিতে গিয়েই ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে।’

নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা চৌধুরী, মীর রাব্বীসহ অনেকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...