আজ রবিবার, ১০ মে,পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় নানা আয়োজন। এছাড়াও আবেগে ভরে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
মা দিবসে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। আজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তুলে ধরেছেন, শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং মায়ের অসীম ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প।
তৌসিফ মাহবুবের পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো:
১৯৯৮-৯৯ সালের এক শীতের সন্ধ্যা। আমি তখন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ি।
আমার স্কুল ছুটি হতো সন্ধ্যা ৫.৩০টায়। আমাকে প্রতিদিন ৫.৪০/৫.৫০-এর দিকে আমার আব্বু বা খালু স্কুল থেকে নিতে আসতো। কিন্তু যেদিনের কথা বলছি সেদিন ৬টা পেরিয়ে গেলেও কেউ আমাকে নিতে আসেনি। স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রী চলে গেছে, আমি একা বসে ছিলাম দারোয়ানের রুমে। ঐ সময়ে সন্ধ্যার পর থেকে ধানমন্ডিতে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ভয়ংকর হয়ে উঠতো। আস্তে আস্তে ৭টা পার হয়ে গেল, আমার মনে তখন প্রচণ্ড রাগ জমতেছিলো।
হঠাৎ একটা রিকশার বেল! দারোয়ান বললো যে আমার মা আমাকে নিতে এসেছে। আমি মাকে দেখে প্রচণ্ড অবাক হলাম, আর কোনো কিছু খেয়াল না করে মায়ের ওপর রাগও ঝাড়তে শুরু করে দিলাম। আমরা যখন রেগে থাকি তখন যেমনটা হয় আর কি! তখন রিকশাওয়ালা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, আমার মায়ের পেটে ছিনতাইকারীরা ছুরি মেরে তার কাছে যা ছিল সবই নিয়ে গেছে! কিন্তু আমার মা এমন রক্তাক্ত অবস্থায়ও কাউকে সাহায্যের জন্য না ডেকে, কোনো হাসপাতালে না গিয়ে বরং আমার স্কুলে চলে আসলো এটা ভেবে যে আমার স্কুল ছুটি হয়েছে ইতোমধ্যেই অনেকক্ষণ হয়ে গেছে এবং আমি বাচ্চা একটা ছেলে, স্কুলে এতক্ষণ একা কিভাবে থাকবো এসব ভেবে। আমি থ হয়ে দেখে রইলাম!
এটাই হচ্ছে আমার মা। আমার ছোটবেলা থেকে এমন অসংখ্য অসংখ্য ত্যাগের, যত্নের, ভালোবাসার ছোট ছোট গল্প আছে আমাকে নিয়ে আমার মায়ের। আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অবদানের ফলেই আপনারা যে আমাকে চেনেন, সেই আজকের আমি হয়ে উঠতে পেরেছি। আমি জানি না এসবের প্রতিদান আমি কীভাবে দেবো, তবে আমি এটুকু জানি আমি আমার মা'কে প্রচণ্ড ভালোবাসি। আর আমি এটাও জানি, পৃথিবীর সকল মায়েরাই তাদের সন্তানদের জন্য আমার মায়ের মতই। পৃথিবীর প্রতিটা মা-ই তাদের সন্তানদের লালন-পালন করতে ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত কত যে পরিশ্রম করছেন, ত্যাগ স্বীকার করছেন ও নীরবে কষ্ট সয়ে যাচ্ছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
আল্লাহ আমাদের সকলের মা'কে সুস্থ রাখুক, দীর্ঘায়ু করুক যাতে আমরা সন্তানরা আজীবন মায়েদের আঁচলে পরম মমতায় আমাদের জীবনটা কাটাতে পারি। আর আল্লাহ আমাদের সকল সন্তানদের তৌফিক দিক, যাতে আমরা আমাদের মায়েদের সবসময় সুখে-শান্তিতে রাখতে পারি ও তাদের সকল আবদার পূরণ করতে পারি। আর যে মায়েরা ইতোমধ্যে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের মাগফেরাত কামনা করি।
আজকের এই বিশেষ দিনে আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মা'কে আমি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সালাম জানাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

