চা বাগানের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে: শ্রমমন্ত্রী

চা বাগানের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে: শ্রমমন্ত্রী

দেশের চা বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শ্রমিক নেতারা। এ সময় চা শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি এবং জীবনমান উন্নয়নসংক্রান্ত আট দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য শোনার পর মন্ত্রী তাদের ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে চা বাগানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করে বাস্তবতা নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপিতে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বর্তমান ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা, সুলভ বাসগৃহের ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের ছুটি, গ্র্যাচুইটি ও উচ্ছেদসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধনের দাবি রয়েছে। চা-অধ্যুষিত এলাকায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সরকারি চাকরিতে চা জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চা শ্রমিকদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ২১টি উপজেলায় ‘চা জনগোষ্ঠী শিল্পকলা একাডেমি’ স্থাপনের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাকি ৬৭টি চা জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে গেজেটভুক্ত করা এবং ঐতিহাসিক ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের দিন ২০ মে-কে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বর্তমান মজুরি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ভূমির মালিকানা, আবাসন, শিক্ষা, চাকরি এবং শ্রম অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তাঁরা মন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বিজয় হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, রাজু গোয়ালা, অর্থ সম্পাদক ধনা বাউরী, কমল বুনার্জী, দেবু কাউরী ও রতন পালসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শ্রমিক নেতাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পাশাপাশি চা বাগানগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন শ্রমমন্ত্রী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন