১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১০ লক্ষাধিক টাকা লুট

ফেনীতে দিনদুপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

ফেনীতে দিনদুপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি
ছবি: আমার দেশ

ফেনীতে দিনদুপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১০ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শহরতলীর মহিপাল ফলের আড়ৎ সংলগ্ন রেহান ম্যানশনে এ দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ওই বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী নুরুজ্জামানের স্ত্রী গৃহবধূ শাহানা আক্তার আমার দেশকে জানান, বাড়ির দ্বিতীয় তলার পুরোটাতে তারা থাকেন। ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলে সামাউন রেহান বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় ঘটনার সময় তিনি বাসায় একা ছিলেন।

দরজায় শব্দ শুনে তিনি গিয়ে কারা এসেছে দেখার জন্য সামান্য ফাঁক করার সঙ্গে সঙ্গে দুজন লোক জোরপূর্বক ভিতরে ঢুকে ছুরি ধরে ওনার মুখে বেঁধে নগদ ১০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ও ১৫ স্বর্ণের গহনা লুট করে পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে দুপুরের দিকে বাসায় পুলিশ এলে তিনি প্রথমে ২০ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও তার বোনের রেখে যাওয়া ৫ ভরি স্বর্ণ ও তাদের নিজদের ব্যাংকের চেক বই পুলিশের উপস্থিতেই খুঁজে পেয়েছেন।

এ সময় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজে সংগ্রহ করে পুলিশ বৃহস্পতিবার আবার আসবেন বলে চলে গেছে।

এ ছাড়া ঘটনাটি শোনার পর একইদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে গৃহকর্তা মো. নুরুজ্জামান প্রবাস থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে ওই গৃহবধূ আমার দেশকে জানিয়েছেন।

ফেনী মডেল থানার এসআই অলি আহমদ পরিদর্শনের বিষয়টি স্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, তিনি যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা ২০ ভরি স্বর্ণালংকের তথ্য দিয়েছিলেন। কয়েকভরি স্বর্ণ ও চেক বই খুঁজে পেয়ে তাদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পেয়েছেন। কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও জিনিসপত্র নিয়ে গেছে তা নিশ্চিত হওয়ার ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস আমার দেশকে বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূ কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঠিক মতো কথা বলতে পারছেন না। ফলে এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

এ ব্যাপারে জানতে রাত সোয়া ৯টায় ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভড না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন সকল থেকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ফেনীতে মাদক বিরোধী র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী জেলা পুলিশের নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

এদিকে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে বাসায় ঢুকে এমন দুর্ধর্ষ ঘটনায় এলাকাবাসী আতংকিত ও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন