হাওয়াখ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন সিনেমা রইদ-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সিনেমাটি মুক্তির পর দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কাছ থেকেও সাড়া পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘খুবই দারুণ অনুভূতি। আমার সেই পুরোনো বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে হয়তো স্কুলের পর আর দেখাই হয়নি, তারাও অনেকে ফোন বা টেক্সট করছে। অনেকে ছবিটা দেখেছে, অনেকে দেখবে বলে শুভকামনা জানাচ্ছে।’
সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি গুণীজন ও পরিবারের ভালোবাসায় ভাসছেন এ অভিনেতা। তিনি আরো যোগ করেন, ‘যাদের সঙ্গে এত বছর ধরে কাজ করছি, যাদের পথ অনুসরণ করছি, তাদের ভালোবাসাটা এখনো পাচ্ছি। ছবি দেখে তারা যেভাবে আশীর্বাদ দিচ্ছেন, এটা খুবই উপভোগ করছি। এমনকি আমার আব্বাও এসে ছবিটা দেখে গেছেন এবং তার খুব ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে রইদের ওমটা আমি খুব উপভোগ করছি।’
এদিকে সিনেমাটি মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে রইদ না বোঝা নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন সিনেমাটির গল্প বা প্রেক্ষাপট সহজে ধরা যাচ্ছে না। দর্শকের এ অংশের জন্য একটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন ইমরান।
সিনেমাটি দেখার সঠিক উপায় নিয়ে ইমরান বলেন, ‘মন দিয়ে দেখো, মন দিয়ে শোনো, মন দিয়ে বোঝো। এ ছবি হলে বসে পাশের লোকের সঙ্গে গপ্পো করতে করতে দেখলে হবে না। পপকর্ন খেতে খেতে দেখলে হবে না, পপকর্ন খাওয়ার একটা শব্দ হয়, সেটা ছবির শব্দেও প্রভাব ফেলে।’
তার মতে, ‘একটা চলচ্চিত্র তো শুধু দৃশ্যে নয়; শব্দ, সংগীত, পারফরম্যান্স অনেক কিছু মিলে হয়। সবকিছুকে শুধু একটা গল্পের স্ট্রাকচারেই বাঁধতে হবে, তা তো নয়; অনুভূতির স্ট্রাকচারেও বাঁধতে হয়। রইদ সে ছবি, যেটা অনুভূতির স্ট্রাকচারে বাঁধা, আবেগ ও ঘোরের স্ট্রাকচারে বাঁধা।’ দর্শকের একাংশের সিনেমাটি বুঝতে না পারার পেছনে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবকে দায়ী করেন এ অভিনেতা।
তিনি বলেন, ‘আসলে সবকিছু বুঝে ওঠার মতো মনন এখনো আমাদের দর্শকের তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধরে লোকচর্চার যে অভাব, তাতে আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনেক কিছুই তো নষ্ট হয়ে গেছে। তবে রইদের মধ্য দিয়ে একটা নতুন ট্রেন্ড সেট হলো, যা আগামীতে অন্যরা অনুসরণ করবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

