বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে এখনো ‘মুজিব শতবর্ষ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে এখনো ‘মুজিব শতবর্ষ’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। কাজী নজরুলের ছবিসংবলিত লোগোর পরিবর্তে ‘মুজিব শতবর্ষ’র লোগো ব্যবহার করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-৫ থেকে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে এই চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক তন্ময় বিশ্বাস।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সময়ে নিয়োগ পাওয়া তন্ময় বিশ্বাস স্বপ্রণোদিত হয়ে এই চিঠি দেন। পরে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক থেকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানানোর পর চিঠিটি তুলে নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে এ ঘটনা জানাজানির পর তন্ময় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। যদিও আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের প্রভাবের কারণে ঘটনা চেপে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পতিত আওয়ামী সরকারের নির্দেশনায় সরকারি দপ্তরের চিঠিতে মুজিবর্ষের লোগো (মুজিব ১০০) সংবলিত চিঠি ব্যবহার করা হতো। মুজিববর্ষের মেয়াদকালে ওই নির্দেশনা বলবৎ ছিল। বর্তমানে এর ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ‘নজরুল বর্ষ’ সংবলিত লোগো ব্যবহারে সব দপ্তরে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল চিঠিতে নতুন এই নির্দেশনা না মেনে মুজিব শতবর্ষের লোগো ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন লোগো ব্যবহার না করে মুজিব বর্ষের লোগোসংবলিত চিঠি দেওয়া প্রশাসনিক নির্দেশনার লঙ্ঘন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোনো ব্যাংকের বিষয়ে তদন্ত বা তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি নোট আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ধাপে ধাপে গভর্নর পর্যন্ত তোলা হয়। এ ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পর্যায়ক্রমে মতামত দিয়ে থাকেন। এরপর গভর্নর ওই ব্যাংকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নোট আকারে লিখে দেন। পরবর্তীতে সেটি পর্যায়ক্রমে নিচের দিকে নামে। তখন সহকারী পরিচালক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা এখনো মুজিব শতবর্ষকে ধারণ করেন। তাই তিনি স্বপ্রণেদিত হয়েই মুজিব শতবর্ষের লোগোসংবলিত চিঠি দিয়েছেন। তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ মানেন না।

মুজিব শতবর্ষের লোগোসংবলিত চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, চিঠিতে মুজিব শতবর্ষের লোগো ব্যবহার ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি। এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। তখন অনেক কাজের চাপ ছিল, সেখান থেকেই ভুলটি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক মনোয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই চিঠিতে মুজিব শতবর্ষের লোগো ব্যবহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক ভুল। আমাদের বিভাগে আগের কিছু প্যাড রয়ে গেছে। একইদিনে বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়। ওই ব্যাংকেও একই সময়ে দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে একটি চিঠিতে ভুলক্রমে পুরনো প্যাডের লোগো প্রিন্ট হয়ে যায়। এর পেছনে কোনো ধরনের ইচ্ছাকৃত উদ্দেশ্য ছিল না।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর পরই ভুল চিঠিটি ফেরত এনে সংশোধিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল।

আগামী ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক পত্রে ‘নজরুল বর্ষ’-এর নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন