নূরের সংগ্রাম থেকে ‘দম’-এর গল্প

বিনোদন রিপোর্টার

নূরের সংগ্রাম থেকে ‘দম’-এর গল্প

২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অপহৃত হন নূর ইসলাম। তালেবানদের হাতে বন্দি ছিলেন দীর্ঘ ৮৪ দিন। প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাই দম সিনেমার মাধ্যমে এখন বড় পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

নূর ইসলামের গল্প প্রথম পড়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন, ‘গল্পটি যখন প্রথম পড়েছি, তখন কেঁদেছি। নূর ভাইয়ের সঙ্গে বসে যখন শুনেছি, তখন আমরা দুজনই কেঁদেছি।’ এরপর আর পেছনে তাকাননি। এ গল্পই হয়ে ওঠে তার সিনেমা দমের ভিত্তি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নূর ইসলাম ও তার স্ত্রী আনোয়ারা পারভীন (রানি)। সেখানে নূর ইসলাম তুলে ধরেন তার শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার বয়ান।

তিনি জানান, তাকে হত্যার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। গাধার পিঠে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পানি পর্যন্ত পান করতে পারছিলেন না। নূর ইসলাম বলেন, ‘ওরা আমাকে জবাই করার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমি খুব জোরে জোরে দোয়া ইউনূস পড়ছিলাম।’ এরপর ঘটে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। তার শরীরে যেন এক অদ্ভুত শক্তি আসে। অপহরণকারীরা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তাকে হত্যা করতে পারেনি। নূর ইসলামের ভাষায়, ‘৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর তারা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল—‘তোর ওপর আল্লাহর রহমত আছে, তোকে আর মারা যাবে না।’

অন্যদিকে নূরের স্ত্রী আনোয়ারা পারভীন স্বামীকে ফিরে পেতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হতো সে বেঁচে আছে। সবাই হাল ছেড়ে দিলেও আমি ছাড়িনি।’

নূর ইসলাম বলেন, ‘মানুষের দোয়ায় বরকত আছে। যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ হার মানা যাবে না।’ এ বার্তাই ছিল সিনেমার মূল শক্তি। নূর ইসলাম ১৮ বছর পর কৃতজ্ঞতা জানান সে সময়ের আপামর জনসাধারণ, টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি। তিনি বিশ্বাস করেন, সব ধর্মের মানুষের দোয়া এবং আল্লাহর অশেষ রহমতেই তিনি আজও বেঁচে আছেন। সিনেমায় নূরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন স্বয়ং নূর ইসলামও। এ বিষয়ে আফরান নিশো বলেন, ‘তাদের ভেতর এখনো সেই দিনগুলোর যন্ত্রণা আছে। আমরা যখন তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, তখন হাহাকারটা অনুভব করেছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন