নির্ভরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাবা

জান্নাতুল মুশরাত জেবিন

নির্ভরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাবা

বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্ভরতা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থলের নাম, যিনি আজীবন ছায়ার মতো সন্তানের পাশে থাকেন। শৈশব থেকে আমৃত্যু এই মানুষটি ভালোবাসা ও মমতায় নীরবে সন্তানের জন্য আত্মত্যাগ করেন এবং হয়ে ওঠেন একমাত্র ভরসারস্থল।

বাবার আঙুল ধরে প্রথম হাঁটতে শেখা

বিজ্ঞাপন

পডয

বাবার আঙুল ধরে হাঁটতে শেখার স্মৃতিটুকু হয়তো আজ স্পষ্ট মনে করতে পারি না, কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ছাপ রয়ে গেছে। একটি শিশুর জন্মের পর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম আশ্রয়স্থল। এক পা, দু’পা করে হাঁটতে গিয়ে যখন পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল, তখন বাবার শক্ত হাতটি ছিল সাহসের উৎস। বাবা শুধু হাঁটতে শেখাননি, শিখিয়েছেন উঠে দাঁড়াতে, চেষ্টা করতে ও কখনো কোনো কিছুতে হার না মানতে। সেই ছোট্ট আঙুলের স্পর্শে ছিল সাহস, নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং অদৃশ্য শক্তি, যা কোনো শিশুকে পৃথিবীকে চিনতে শেখায়। স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে প্রথম পরীক্ষার ভয়, প্রথম ব্যর্থতার কষ্ট কিংবা প্রথম সাফল্যের আনন্দ—সবকিছুর পেছনেই বাবার নীরব উপস্থিতি থাকে। বাবার আঙুল ধরে প্রথম হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। বাবা শুধু একজন অভিভাবকই নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম পথপ্রদর্শক, প্রথম নায়ক এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তার ভালোবাসা, দোয়া ও ত্যাগ সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ, যেটি অন্য যেকোনো কিছুর বিনিময়েও পাওয়া সম্ভব নয়।

আফিয়া সুলতানা আঁখি

অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

না বলা অনুভূতিতে বাবা

পডযড়

দুটি অক্ষরের খুব ছোট একটি শব্দ হলো ‘বাবা’। ‘বাবা’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আকাশসমান বিশালতা। জীবনের অনেক গল্প অনেক কথাই মুখ ফুটে কখনো বলা হয় না বাবাকে। সেই না বলা গল্পগুলোর, না বলা কথাগুলোর, না বলা অনুভূতিগুলোর নীরব আশ্রয়স্থল হলো বাবা।

পরিবারের সব দায়িত্ব নীরবে কাঁধে তুলে নিয়ে যিনি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেন জীবনের প্রতিটি বাঁকে, যার কঠোর শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে হৃদয়নিংড়ানো ভালোবাসা, তাকে কখনোই মুখ ফুটে বলা হয়নি—‘বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ বাবা নিজের স্বপ্নগুলো হাসিমুখে বিসর্জন দেন প্রতিনিয়ত সবার আড়ালে। আমাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাবার সঙ্গে এক অদ্ভুত দূরত্বের দেয়াল তৈরি হয়। সেই দেয়াল ভেদ করে জমে থাকা অনেক কথাই বলা হয় না। সেই না বলা অনুভূতিগুলোই হলো—‘বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ সব দেয়াল ভেদ করে চিৎকার করে বলি, ‘বাবা তোমার ওই কড়া শাসনগুলোর মধ্যেই ছিল আমার জীবনের সেরা শিক্ষা।’ আমার জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে তুমিই একমাত্র কারিগর। আড়ালে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে যেতে বাবারা কখনো কার্পণ্য করে না। তাই এই বাবা দিবসে এটাই বলতে চাই—‘তুমি ভালো থেকো আজীবন আমার মাথার মুকুট হয়ে, সেইসঙ্গে ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবারা।’

সাদিয়া হোসাইন

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

বটবৃক্ষের ছায়ার মতো বাবা

ডপট

বটবৃক্ষের মতোই বাবা। নীরবে নিঃশব্দে পরিবারের সব ঝড়ঝাপটা নিজের কাঁধে নিয়ে আমাদের ছায়া দিয়ে যান। বটগাছ যেমন তার ডালপালা মেলে পথিককে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচায়, বাবাও তেমনি সংসারের সব দুর্যোগ নিজের ওপর নিয়ে সন্তানদের আগলে রাখেন। তার ছায়ায় আমরা নিশ্চিন্তে বড় হই, স্বপ্ন দেখি।

সন্তানদের সুখী রাখতে বাবা নিজের সুখ পর্যন্ত বিসর্জন দেন। নিজে কষ্টে থাকলেও সন্তানদের গায়ে কষ্টের আঁচটুকু লাগতে দেন না। বটগাছের শিকড় যেমন মাটির গভীরে গিয়ে তাকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে, বাবাও পরিবারের সেই শিকড়। তার আদেশ, সততা ও পরিশ্রমই আমাদের মূল্যবোধের ভিত্তি। বটগাছ ফল দেয় না; কিন্তু অক্সিজেন দেয়, আশ্রয় দেয়, বিশ্রাম দেয়। বাবাও প্রতিদান চান না। সন্তানের একটি হাসি কিংবা একটি সাফল্যই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ক্লান্ত শরীরেও তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যান। বটগাছ কখনো বলে না, ‘আমি তোমাদের ছায়া দিচ্ছি।’ বাবাও বলেন না, ‘আমি তোমাদের জন্য কত কিছু করেছি।’ তার অভাবের গল্প আমরা বুঝি অনেক পরে। মা হলেন মমতার নদী, আর বাবা হলেন সেই নদীর দুপাড়ের বটবৃক্ষ। নদী ভাঙে, গড়ে; কিন্তু বটগাছ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বাবা হারালে বোঝা যায় মাথার ওপর ছাদটা আসলে কত বড় ছিল। তাই বেঁচে থাকতেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলতে চাই—‘বাবা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’

মোছা. মুনিরা সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

বাবা জীবনের অন্যতম পথপ্রদর্শক

ড়গহ

বাবা মানে নিঝুম রাতের এক টুকরো চাঁদের আলো, যা নিঃশব্দে আমাদের অন্ধকার পথকে আলোকময় করে তোলে। তিনি পৃথিবীর এমন এক অনন্য পথপ্রদর্শক, যিনি কোনো প্রতিদানের আশা না করেই নিজের জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। ঝড়ের রাতে যে মাঝি শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরে রাখে, বাবা ঠিক তেমনই এক ভরসার নাম। তার তপ্ত নিঃশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের প্রতিটি বিন্দু আমাদের জীবনের সাফল্যের সিঁড়ি তৈরি করে।

বাবারা কখনো মুখে ভালোবাসার কথা বলেন না, কিন্তু তাদের ভেজা চোখের কোণে আর কপালে জমে থাকা চিন্তার ভাঁজে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি ও নিঃস্বার্থ প্রেম। তিনি তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেন আমাদের ভালো রাখার। জীবনের প্রতিটি কঠিন বাঁকে যখন আমরা দিক হারিয়ে ফেলি, তখন তার এক জোড়া চশমা পরা চোখ আর অভিজ্ঞ হাত আমাদের সঠিক পথের দিশা দেখায়। বাবা কেবল একজন মানুষ নন, তিনি এক বিশাল ছায়াবৃক্ষ, যার তলে প্রতিটি সন্তান খুঁজে পায় পরম শান্তি ও নিরাপত্তা।

কানিজ সুবর্ণা বাবলি

অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

ড়ঙয

একজন সন্তানের কাছে ‘বাবা’ শব্দটা যতটা মধুর, ঠিক ততটাই নিরাপদ। একজন বাবা তার সন্তানকে সব অপশক্তি থেকে রক্ষা করে আগলে রাখতে চান। নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করে বাবা তার সন্তানকে আদর্শবান ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অসুস্থতার সময় সন্তানকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধপত্র কেনা এবং মায়ের পাশাপাশি মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিতে ভোলেন না একজন বাবা। পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলে বাবা যেমন শাসন করেন, তেমনি পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলে সবচেয়ে খুশি বাবাই হন। বাবা নিজের বেতন থেকে কিছু অর্থ ব্যাংকে জমিয়ে রাখেন, যাতে তার সন্তান যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলেই এই জমানো অর্থসম্পদ কাজে আসে। বাবা মানেই শক্তি, বাবা মানেই নিশ্চিত ভবিষ্যৎ, একজন মানুষের কাছে তার বাবা সবচেয়ে দামি সম্পদ। তাই বাবার মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর কোথাও নেই।

আদিবা মোবাশ্বেরা হক

অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন