সবে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি হলাম। জুন মাসের ১০ তারিখে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের নোটিস পেলাম। বেশ আনন্দিত মনে সেদিন ক্লাসে গিয়েছিলাম। উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম ক্লাস বাংলা দিয়েই শুরু হলো। ক্লাস নিচ্ছেন বাংলার শিক্ষক রিদুয়ান ফরহাদ স্যার।
স্যার আলোচনা করছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মননশীল ও আত্মনির্ভরতামূলক প্রবন্ধ ‘আমার পথ’ নিয়ে। আমিও ক্লাসে বেশ মনোযোগী ছিলাম। মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম স্যারের প্রতিটি শব্দ। স্যার এতটাই চমৎকার পড়াচ্ছিলেন যে, চারপাশটা নিঃশব্দ হয়ে ছিল। শুধু স্যারের মুখের নিঃসৃত প্রতিটি শব্দকণা আমাদের আত্মার অভয়ারণ্যে বিচরণ করছে।
কবির ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু সেদিন স্যার আমাদের মধ্যে বপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্যারের সেদিনকার আলোচনার কয়েকটি লাইন আমার এখনো স্পষ্ট কানে বাজে—‘আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।’
উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে স্যারের এই প্রথম ক্লাসেই নিজের আত্মাকে আংশিক পরিশুদ্ধ হলেও করতে পেরেছি বলে মনে করি। স্যারের সেই প্রথম ক্লাসের উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভর করে আজ উচ্চশিক্ষার শেষ ধাপে পৌঁছেছি।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির সেই বাংলা শিক্ষক রিদুয়ান ফরহাদ স্যারকে পাশে পেয়েছিলাম। তিনি চাকরি হারানোর তোয়াক্কা না করে সেদিন আমাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেমে এসেছিলেন। সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, স্যারের নেওয়া উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির প্রথম ক্লাসের তাৎপর্য।
সেদিন আন্দোলনে রিদুয়ান ফরহাদ স্যারের অংশগ্রহণ আমাকে আরো বেশি সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। স্যার সেদিন বলেছিলেন, ‘সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সৎসাহস সঞ্চয় করতে হবে, জিকু।’ স্যারের এই অমৃত কথাটি আমি আমৃত্যু মনে রাখতে চাই এবং ধারণ করে বাঁচতে চাই।
শিক্ষার্থীদের সত্যের পথ দেখানো শিক্ষক রিদুয়ান ফরহাদ স্যারসহ পৃথিবীর সব শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

