আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ময়ূর যেন সৌন্দর্যের রানি

জাহরা মাহমুদ

ময়ূর যেন সৌন্দর্যের রানি

ময়ূর ফ্যাজিয়ানিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত সুন্দর পাখি। এশিয়ায় ‘পাভো’ গণে মোট দুই প্রজাতির এবং আফ্রিকায় ‘আফ্রোপাভো’ গণে একটি ময়ূরের প্রজাতি দেখা যায়। এশিয়ার প্রজাতি দুটি হলো নীল ময়ূর এবং সবুজ ময়ূর । আফ্রিকার প্রজাতিটির নাম ‘কঙ্গো ময়ূর’ (Afropavo congensis)।

নীল ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে এদের দেখতে পাওয়া যায়। কোনো একসময় বাংলাদেশে কিছু ময়ূর দেখতে পাওয়া গেলেও এখন চিড়িয়াখানা ছাড়া ময়ূর পাখি দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে। জাভা এবং মিয়ানমারে বিপুলসংখ্যক সবুজ ময়ূর দেখতে পাওয়া যায়। তবে এ কথা সত্যি, আশঙ্কাজনক হারে বিশ্বব্যাপী ময়ূরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ময়ূরকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ময়ূর মিয়ানমারের জাতীয় প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

নীল ও সবুজ ময়ূরের পাশাপাশি সাদা ময়ূরও দেখতে পাওয়া যায়। এদের দেহ শুধু সাদা হলেও চোখের রঙ হয় নীল। প্রকৃতপক্ষে নীল ময়ূরই সাদা ময়ূর, জিনগত মিউটেশনের কারণে এদের পালক সাদা দেখায়।

ময়ূরের সব প্রজাতি সাধারণত বনে বাস করে, তবে অন্যান্য পাখির মতো গাছের ডালে নয়, মাটিতে বাসা বাঁধে। মাঝে মাঝে ময়ূরকে লোকালয়েও দেখা যায়। বিশেষ করে, সংরক্ষিত এলাকায় এরা মানুষের খুব কাছে চলে আসে।

ময়ূর সর্বভুক পাখি। এরা সব ধরনের খাবার খাওয়াতে অভ্যস্ত । চারা গাছের অংশ, কীটপতঙ্গ, বীজের খোসা, ফুলের পাপড়ি এবং ছোট ছোট সন্ধিপদ প্রাণী খায়।

ময়ূর ডিম পাড়ে ও ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। ছোট বাচ্চাগুলো মুরগির বাচ্চার মতোই মায়ের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। বিপদ দেখলেই মায়ের ডানার নিচে এসে লুকায়Ñঅবিকল মুরগির বাচ্চাদের মতো। ছোট বাচ্চারা মুরগির বাচ্চার মতোই মায়ের পালকের আড়ালে, আবার কখনোবা পিঠের উপর লাফিয়ে ওঠে।

পুরুষ ময়ূরেরা স্ত্রী ময়ূরকে আকৃষ্ট করার জন্য পেখম মেলে ঘুরে ঘুরে নাচে। ঘুরে ঘুরে নাচার সময় এদের খুবই আকর্ষণীয় দেখায়। তবে ভারতীয় ময়ূরের মতো সাদা ময়ূরের পেখমে সোনালি পালক বা নীল রঙের বড় ফোটা থাকে না। সাদা ময়ূর সম্পূর্ণ সাদা। স্ত্রী ময়ূরও পেখম মেলে ধরে তবে তা শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য। স্ত্রী ময়ূরের পেখম আকারে অনেক ছোট।

ময়ূর বন্যপাখি হলেও অন্য পাখিদের মতো এরা গাছের পালে বাসা বাঁধে না, মাটির গর্তে বাসা বানিয়ে বাস করে । তবে বিশ্রাম করার সময় গাছে বসে বিশ্রাম করে। এরা টিরেস্ট্রিয়াল খাদক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ময়ূরের সব প্রজাতি পলিগামাস। সাধারণত শত্রুর কাছ থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য Galliformes বর্গের প্রাণীদের মতো এরাও এদের মেটাটারসাল (পায়ের নখর) ব্যবহার করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...