পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে করণীয়

আরিফ বিন নজরুল

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে করণীয়

ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, এয়ারপোর্ট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস—ফ্রি ওয়াইফাই এখন প্রায় সর্বত্র। মোবাইল ডেটা বাঁচাতে কিংবা দ্রুত কাজ শেষ করতে অনেকেই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করেন। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। অজান্তেই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চলে যেতে পারে অন্য কারও হাতে। তাই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সচেতনতা শুধু জরুরি নয়, অনেক সময় অপরিহার্য।

পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর উন্মুক্ততা। একই নেটওয়ার্কে অনেক অজানা ব্যবহারকারী যুক্ত থাকে। ফলে হ্যাকারদের জন্য এটি সহজ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। তারা নকল নেটওয়ার্ক (Fake WiFi) তৈরি করে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত হতে প্রলুব্ধ করতে পারে। আপনি যদি ভুল করে সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। তাহলে আপনার ডিভাইসের ডেটা সহজেই নজরদারিতে চলে যেতে পারে। তাই প্রথম করণীয়—নেটওয়ার্কের নাম নিশ্চিত হওয়া এবং সন্দেহজনক কোনো ওয়াইফাই এড়িয়ে চলা। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংবেদনশীল কাজ এড়িয়ে চলা। অনলাইন ব্যাংকিং, পেমেন্ট, গুরুত্বপূর্ণ লগইন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান—এসব কাজ কখনোই পাবলিক নেটওয়ার্কে করা উচিত নয়। কারণ এই ধরনের তথ্যই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করাই নিরাপদ।

বিজ্ঞাপন

ডিভাইসের নিরাপত্তা সেটিংসও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ফাইল শেয়ারিং, ব্লুটুথ বা অটো-কানেক্ট অপশন চালু থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের আগে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া ভালো। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের ঠিকানায় “https” আছে কি না খেয়াল করা জরুরি। কারণ এটি এনক্রিপ্টেড সংযোগ নিশ্চিত করে। আরও নিরাপত্তার জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) ব্যবহার করলে ডেটা এনক্রিপ্টেড থাকে। ফলে অন্য কেউ সহজে তা পড়তে পারে না। অনেকেই দীর্ঘ সময় পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু লগআউট করতে ভুলে যান। এটি একটি বড় ভুল। কাজ শেষে সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করা এবং ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ডিভাইসে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস থাকলে সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে পাবলিক ওয়াইফাই পুরোপুরি এড়িয়ে চলাও বাস্তবসম্মত নয়। বরং সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন—সাধারণ ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা বা অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সবশেষে বলা যায়, পাবলিক ওয়াইফাই একটি সুবিধাজনক প্রযুক্তি। কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসচেতনতা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে তার ঝুঁকির দিকটিও বুঝে ব্যবহার করা জরুরি। সচেতন ব্যবহারই পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যকে নিরাপদ রাখতে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন