প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কম্পিউটার টেবিলে বসে কাজ করার ফলে শরীরে নানারকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে; যেমন মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, অস্বস্তি, অনুভূতিজনিত সমস্যা, কোমরব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কনুইব্যথা, কবজিব্যথা-সহ নানা অনুভূতি। এমনকি দীর্ঘ সময় ঝুঁকে কাজ করার কারণে অল্প বয়সে কুঁজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এসব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে প্রয়োজন সচেতনতা। কম্পিউটার টেবিল, চেয়ার ও মনিটরের সঠিক অবস্থান এবং উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। যথাযথ দূরত্ব বজায় রেখে সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করলে শারীরিক ফিটনেস যেমন ঠিক থাকে, তেমনি মনেও মেলে প্রশান্তি।
বসার নিয়ম
চেয়ারে ঘাড় ও পিঠ বাঁকিয়ে বসবেন না। পিঠের নিচের অংশ ও চেয়ারের মধ্যে কোনো ফাঁকা জায়গা রেখে বসা যাবে না। কম্পিউটার বা খাতা-কলমের কাজ, যেটিই করুন না কেন কাজের জিনিসগুলো রাখতে হবে সুবিধাজনক দূরত্বে। চেয়ার ও টেবিলের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব রাখা যাবে না। হাত ঝুলিয়ে কাজ করবেন না। লেখার সময় এবং কি-বোর্ড বা মাউসের কাজ করার সময় হাতের আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো অংশটাই যেন টেবিলের ওপর থাকে। পা দুটি আরামদায়কভাবে মেঝেতে রাখুন। ঊরু থাকবে মেঝের সমান্তরাল।
টেবিলের উচ্চতা
টেবিলের উচ্চতা প্রমাণ মানের হবে, যাতে একজন স্বাভাবিক আকৃতির কর্মী কাজ করতে অসুবিধার সম্মুখীন না হন। ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউটের মতানুসারে টাইপিস্টদের জন্য ২৭ থেকে ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার টেবিলই অধিকতর উপযোগী। কি-বোর্ড ও মাউসের জায়গাটি আপনার ঊরুর এক থেকে দুই ইঞ্চি ওপরে থাকবে, যাতে বাহু মেরুদণ্ডের সমান্তরাল অবস্থানে থাকে। টেবিলে হাত যাতে ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে, সেভাবে চেয়ারও উঁচু করে নিতে হবে।
চেয়ার
টেবিল থেকে একটু দূরে মনিটরের যথাযথ উচ্চতা ঠিক করার পর সোজা হয়ে বসার উপযোগী চেয়ার ব্যবহার করুন। হেলান দিয়ে বসে কাজ করা যায় এমন চেয়ারই ভালো। এতে কোমর, ঊরু ও হাঁটু সমান্তরাল অবস্থানে থাকে। চেয়ার থেকে পায়ের পাতা ঝুলিয়ে না রেখে মেঝেতে বিছিয়ে রাখুন। পুরো চেয়ারে বসুন, যাতে দেহের ওজন কোমরে সমভাবে বণ্টিত হয়। অবশ্যই মেরুদণ্ড ও মাথা সোজা রাখুন। এতে মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা ও অল্প বয়সে কুঁজো হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়। আর গদি এমন হবে, যা খুব শক্ত কিংবা বেশি নরমও নয়।
চোখের দূরত্ব
মনিটরের খুব কাছে বসে থেকে কাজ করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই মনিটর থেকে চোখের দূরত্ব যেন কমপক্ষে ৫০ সেন্টিমিটার হয়, সেটি খেয়াল রাখুন। আরো ভালো হয় যদি ৭৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে কাজ করা যায়। তবে হাই-রেজল্যুশন কম্পিউটারের হলে এই দূরত্ব ১০০ সেন্টিমিটার হতে পারে। এতে চোখের ওপর চাপ কমবে; পাশাপাশি সামনে দিকে ঝুঁকে বসার প্রবণতাও কমবে। এছাড়া কাজের সময় প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি শিথিল হয়। এতে আপনার চোখ ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ থেকে উপশম পাবে।
বিরতি ও ব্যায়াম
টানা কাজ করার মধ্যে চাই বিরতি। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর মনিটর থেকে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার কাজ করুন। এতে অনুভূতিজনিত সমস্যা এড়ানো এবং কাজে বোরিং ফিল থেকে স্বস্তি পাবেন। চোখও বেশ আরাম পাবে। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে শরীরে যে অবসাদ তৈরি হয়, ক্ষণিক বিরতি নিয়ে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে তা কমবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

