জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে ভিসি ও ট্রেজারারের সামনেই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মোঃ লিমন ইসলামকে বেধড়ক মারধর করেছে জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রাফিসহ অন্যান্যরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ধূপখোলা মাঠে আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইসলামিক স্টাডিজ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয়লাভ করার পর হঠাৎ মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়ী দলের উগ্র শিক্ষার্থীরা দৌড়ে প্রতিপক্ষ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জটলার মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং এক নারী শিক্ষিকাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে হাতাহাতি শুরু হলে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তবে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি লিমন ইসলামের ওপর হামলার ধরণ ছিল বর্বরোচিত। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটাতে তাকে লক্ষ্য করে ২০-২৫ জনের একটি দল উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সামনেই ঘেরাও করে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলায় লিমন ইসলাম ছাড়াও দ্য ডেইলি স্টারের জবি প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আহতদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিব।
আহত অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে দেশ রূপান্তরের ফাতেমা আলী, আজকের পত্রিকার সোহান ফরাজী, দিনকালের শিহাব, বার্তা২৪-এর সোহানুর রহমান সুবেল এবং কালবেলার তৌসিন, নাইম, রাকিব ও মাজহার রয়েছেন। আহতদের পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গুরুতর আহত সাংবাদিক লিমন ইসলাম বলেন, "ম্যাচে জেতার পর ওরা প্রথমে জার্নালিজম বিভাগের ওপর হামলা চালায়। মূলত ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই আমাকে টার্গেট করা হয়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৫ ব্যাচের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রাফি, জকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক নূর নবী এবং জবি পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিকের ইন্ধনে এই হামলা হয়। স্টেজের সামনে স্বয়ং ভিসি ও ট্রেজারার স্যারের উপস্থিতিতে প্রায় ২০-২৫ জন মিলে আমাকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়েছে।"
এই হামলায় রাজনৈতিক ইন্ধন ও বহিরাগতদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিব মিয়া বলেন, "ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও জকসুর পরাজিত এজিএস পদপ্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল স্টেজের পূর্ব কর্ণার থেকে লাঠি সরবরাহ করে এবং হামলার জন্য ইন্ধন দিতে থাকেন।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, "ঘটনাটি আমাদের সামনেই ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে জরুরি মিটিং করছি। তদন্ত সাপেক্ষে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

