আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাবিতে প্রক্সি দিয়ে ভর্তি

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, রাবি

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান প্রক্সি দিয়ে ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে তার অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে রেজাল্টও। চার বছর ধরে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসেনি।

এ নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি আমার দেশ- ‘রাবিতে প্রক্সিতে ভর্তি, অভিযুক্ত চতুর্থ বর্ষে পড়লেও জানে না প্রশাসন’ শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদ প্রকাশের দেড় মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গঠন করা হয়নি কোনো তদন্ত কমিটিও।

বিজ্ঞাপন

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষার সময় ব্যবহৃত পরীক্ষার্থীর অফিসিয়াল অ্যাডমিট কার্ডের ছবির সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানের চেহারার কোনো মিল নেই। অ্যাডমিট কার্ডে যে ব্যক্তির ছবি রয়েছে এবং বর্তমানে যিনি চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন, তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। প্রকাশিত সংবাদের প্রমাণসহ পেপার কাটিং পাঠানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে। সে সময় কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা সংবাদটি দেখার পরই খুবই সিরিয়াসভাবে নিয়েছি বিষয়টাকে। তবে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। প্রমাণের জন্য তার ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, ওএমআর সিট, তার পরীক্ষার খাতা দরকার। আমরা তার বিভাগ, ডিন অফিস এবং আইসিটি সেন্টারে চিঠি দিয়েছিলাম এটার তথ্যের জন্য। আইসিটি সেন্টার জানিয়েছে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ডিন অফিস থেকে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, প্রমাণ ছাড়া তো আমরা একজনকে ডেকে তার সাক্ষাৎকার নিতে পারি না। তখন সে বলবে সে কিছু করেনি। যথেষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। কতদিনে এর সমাধান করা যাবে বলতে পারছি না তবে ১৫ দিনের মধ্যে কতটুকু আগাতে পারব সেটা জানাতে পারব বলে আশা করছি।

এদিকে ২২ ফেব্রুয়ারি আইন বিভাগের অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, এসব বিষয় দেড় মাসে হয় না। আরো বেশি সময় লাগতে পারে। রেজাল্ট পাবলিশ হওয়া কোনো ব্যাপার না। বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টা যাচাই করে দেখবে যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তার রেজাল্ট বাতিল হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন