চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয়দের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও একদল সাধারণ শিক্ষার্থী ।
রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে ডাস চত্বরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, গতকাল একজন নারী শিক্ষার্থী বাসায় দেরিতে প্রবেশ করতে চাইলে তার সাথে একজন দারোয়ান খারাপ ব্যবহার করে এবং গায়ে হাত তোলে।
এর প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের ভাইদের উপর হামলা করেছে। গতকাল ও আজকে সন্ত্রাসীদের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে৷ কিন্তু ইন্টেরিম সরকার এই হামলা রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ইন্টেরিমকে বলতে চাই, আপনারা যদি ব্যর্থ হন, সে দায় স্বীকার করুন, ক্ষমতার ভার সইতে না পারলে পদত্যাগ করুন।
ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ইন্টেরিমকে বলতে চাই, আপনারা ছাত্র-জনতার রক্তের উপর পা দিয়ে ক্ষমতায় আছেন। আপনাদের শেষ হুশিয়ারি দিচ্ছি, আবারও যদি কোনো শিক্ষার্থীর রক্ত ঝরে তাহলে আপনাদের টেনে নামাতে সময় লাগবে না৷ অতি দ্রুত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে মসনদ ত্যাগ করুন।
ঢাবি সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে সর্বজন গৃহীত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাদেরকে দেশের মানুষ সমর্থন যুগিয়েছিল। সবাই ভেবেছিল, তারা ক্ষমতায় এসে সুন্দর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি করে দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু আমরা পরবর্তীতে দেখেছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হয়েছে মবের আস্তানা। এই সরকারের নিয়োগকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিরাপত্তার উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব না হতো, সহমর্মিতা সৃষ্টি হতো তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে মার খেতে হতো না৷ এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলার স্বীকার হতে হতো না।
তিনি বলেন, নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ভেবেছিলাম তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশ বাহিনীতে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এটা হকস্যরসের সৃষ্টি করেছে। এই হাস্যরস শিক্ষার্থীরা দেখতে চায় না। আমাদের ভাইয়ের যেভাবে মার খেলো এর দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এড়াতে পারে না৷ চট্টগ্রামে আমাদের ভাইদের রক্তের দাগ শুকানোর আগে অতি দ্রুত জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এর আগে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয়দের দ্বারা বর্বরোচিত এবং ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সাধারণ শিক্ষার্থী।
এসময় তারা- ‘চবিতে রক্ত ঝরে, ইন্টেরিম কি করে?’; চবিতে হামলা/ রক্ত কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’; ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত’; আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’; ‘বাঁচতে হলে লড়তে হবে, এই লড়াইয়ে জিততে হবে’- ইত্যাদি স্লোগান দেন৷
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

