শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ শর্ত প্রত্যাখ্যান করে অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিভিন্ন প্যানেলের ভিপি প্রার্থীরা।
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “আমরা কোনো ধরনের অঙ্গীকারনামায় সই করতে রাজি নই। আমরা নিজের বা আমাদের প্যানেলের কারও অন্যায়ের দায় নিতে পারি, কিন্তু সবার দায় নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সব প্যানেল মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ধরনের অঙ্গীকারনামায় আমরা যাব না। বরং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে, যেখানে আমরা জানাবো নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমরা একটি উৎসবমুখর, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন চাই।”
ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “শাকসু নির্বাচনে সহিংসতা না হওয়া নিশ্চিত করা কি আমাদের দায়িত্ব? এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাহলে কেন আমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় সই নেওয়া হবে তা আমরা বুঝতে পারছি না। এজন্য আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং কেউই এতে সই করব না।”
এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড মো সাজেদুল করিম জানান, ইসি বরাবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রত্যেক প্যানেলের দুই থেকে তিনজন প্রার্থীর সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারনামা পেশ করার কথা বলেছেন।
প্রস্তাবিত অঙ্গীকারনামায় তিনটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শর্তগুলো হলো-
১. শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
২. শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
৩. শাকসু নির্বাচনকালীন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না।
অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং শাকসুতে পদের নাম উল্লেখ করার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ শর্ত মেনে অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষর করতে শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে সকল প্রার্থীদের নিয়ে উপ-উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে বসেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা অঙ্গিকার নামার পরিবর্তে স্মারক লিপি দিতে রাজি হন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

