খুঁজে পাওয়া গেছে মিশরীয় বন্দর হেরাক্লিয়ান

জাহরা মাহমুদ

খুঁজে পাওয়া গেছে মিশরীয় বন্দর হেরাক্লিয়ান

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে আবু কির উপসাগরের তলদেশে হেরাক্লিয়ন নামে এক প্রাচীন বন্দর শহরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, অনেকেই এ কথা জানতেন। কিন্তু আচমকাই একদিন হারিয়ে যাওয়া সেই শহরটির খোঁজ পাওয়া যাবে, এ কথা কেউ জানতেন না।

দুই হাজার সালে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর আন্ডার ওয়াটার আর্কিওলজির কয়েক বিজ্ঞানী সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যাওয়া এক যুদ্ধজাহাজের খোঁজ করছিলেন। সেই উদ্যোগে মিসরীয় পুরাতত্ত্ব কাউন্সিলরও জড়িত ছিলেন। সমুদ্রের নিচে অনুসন্ধানে নামা এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডির। আবু কির উপসাগরে তারা মূলত ফ্রান্সের বিখ্যাত দিগ্বিজয়ী সম্রাট নেপোলিয়নের একটি ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ খুঁজছিলেন। কিন্তু জাহাজের খোঁজ করতে গিয়ে যে এক অমূল্য গুপ্তধনের খোঁজ পেয়ে যাবেন, তা ছিল তাদের ধারণারও বাইরে। সমুদ্রের তলদেশে ১ হাজার ২০০ বছর ধরে জমে থাকা বালি সরাতেই সেগুলোর নিচে থাকা হেরাক্লিয়ন শহরের খোঁজ পাওয়া যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডির যখন যুদ্ধজাহাজের অংশ খুঁজছিলেন, তখন ‘হাপি’র একটি টুকরো তার হাতে লাগে । হাপি ছিল হেরাক্লিয়ানের শহরে থাকা ছয় টন ওজনের একটি মূর্তি।

বিজ্ঞাপন

এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার প্রত্নতত্ত্ববিদদের অভিভূত করে। এরপর তারা ১৩ বছর ধরে জমে থাকা বালি খুঁড়ে খুঁড়ে হেরাক্লিয়ানের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করেন।

হেরাক্লিয়ানের মিসরীয় নাম ‘থনিস’। তাই অনেকেই এই বন্দর শহরকে থনিস হেরাক্লিয়ান বলে। মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে এটির অবস্থান। খ্রিষ্টপূব ১২ শতকে ঐতিহাসিক এই সুপ্রাচীন শহরে মানুষের বসবাস শুরু হয়।

হেরাক্লিয়ান ছিল ভূমধ্যসাগরে ঢোকার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় বন্দর। মিসরীয় দেবতা আমনের সুবিশাল মূর্তিকে পূজা করার জন্য দেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন এখানে আসত। কিন্তু হেরাক্লিয়ানের এত জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মানুষ একদিন শহরটির নাম ভুলতে বসেছিল । কারণ একদিন ভূমিকম্পের আঘাতে হেরাক্লিয়ান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়।

খননকাজের সময় মিসরীয় দেবতা ও তার ছেলে খনসৌয়ের মন্দিরের ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। আরো পাওয়া যায়, ৭০০টি নোঙরসহ ৬৪টিরও বেশি জাহাজের ধংসাবশেষ, প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা, তামা, পাথরের বাটখারা ও সোনার তৈরি তৈজসপত্র। সমুদ্রের তলদেশ থেকে তুলে আনা হয় দুই হাজার বছরের পুরোনো বিখ্যাত মিসরীয় দেবী আইসিসের আদলে গড়া তৃতীয় ক্লিওপেট্রার মূর্তি। এগুলো ছাড়াও আরো পাওয়া গিয়েছিল গ্রিক ও ‍মিসরীয় ভাষায় খোদাই করা পাথরের ফলক ও কয়েকটি শবাধার। এই শবাধারের মধ্যে দেবতা আমনের উদ্দেশে বলি দেওয়া নানা পশুর মমি ছিল ।

অবাক হওয়ার ব্যাপার, এত বছর পরেও সবকিছুই প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল! গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নিদর্শনের খোঁজ মিললেও অনেক জিনিসই হয়তো সমুদ্রের বালির নিচে আজীবনের জন্য হারিয়ে গেছে; অথবা কোনো একদিন হয়তো এমন করেই কোনো অনুসন্ধানী দল সেসব আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন