টিপু সুলতানের প্রকৃত নাম ফতেহ আলী সাহাব টিপু। তিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের এক স্বাধীনচেতা সুলতান ছিলেন। তার জন্ম ১৭৫০ সালের ২০ নভেম্বর এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে যুদ্ধে ১৭৯৯ সালের ৪ মে তিনি নিহত হন। মৃত্যু হয় ১৭৯৯ সালে। শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরী নদীর একটি ব-দ্বীপে নির্মিত দুর্গ থেকে টিপু সুলতান রাজ্য শাসন করতেন। স্বাধীনভাবে রাজ্য শাসনের জন্য আমৃত্যু তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য তাকে ‘শের-ই-মহীশূর’ বা মহীশূরের সিংহ বলা হতো। তার বাবা হায়দার আলী মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন। ফ্রান্সের সেসমকার সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তার মিত্র ছিলেন এবং ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে সাহায্য করেছিল। টিপু সুলতান তার শাসনকালে মহীশূর রাজ্যে একটি নতুন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা মহীশূরের রেশম শিল্পের বিকাশের সূচনা করেছিল।
টিপু সুলতানের সেনাপতি মীর সাদিক ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলায় এবং ব্রিটিশ শাসকরা সুলতানের পরিবারের সদস্যদের ভেলোরের দুর্গের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখে। পরবর্তী সময়ে বন্দিদের একটি বড় অংশকে কলকাতা পাঠিয়ে দেওয়া হয়; আর অনেককে ভেলোরে রেখে দেওয়া হয়। কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সময় টিপু সুলতানের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে শাহজাদা ওয়াহিদ উল্লাহ সুলতান সেখান থেকে পালিয়ে পরিচয় গোপন করে ওয়াহিদ উল্লাহ নামে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে আশ্রয় নেন। এভাবেই টিপু সুলতানের বংশধরেরা ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। টিপু সুলতানকে শের-ই-মহীশূর উপাধি ইংরেজরাই দিয়েছিল। তাকে এই উপাধি দেওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা। মহীশূরের স্থানীয় কানাড়ী ভাষায় ‘টিপু’ শব্দের অর্থ হলো ‘বাঘ’। হয়তো তাকে ‘শের-ই-মহীশূর’ ডাকার পেছনে এটাও একটা কারণ ছিল। টিপু সুলতানের চারজন স্ত্রী, ১৫ জন ছেলে এবং কমপক্ষে আটজন মেয়ে ছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

