বিচিত্র প্রাণিজগৎ

পাখিটির নাম টার্কি

পাখিটির নাম টার্কি

আমরা অনেকেই টার্কি পাখি দেখেছি আর অনেকের বাড়িতে টার্কি পাখি পোষাও হয়। কিন্তু এ পাখিটি আমাদের দেশি পাখি নয়। এরা মূলত মেক্সিকো এবং কেন্দ্রীয় আমেরিকা—অর্থাৎ মেসোআমেরিকান অঞ্চলের বন্য প্রজাতির পাখি। তবে ইদানীং টার্কিকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালন করা হচ্ছে। কারণ যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে এরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। এই পাখিগুলোকে দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।

পুরুষ টার্কি আর স্ত্রী টার্কিকে কিন্তু দুটি ভিন্ন নামে ডাকা হয়। পুরুষ টার্কিকে ডাকা হয় ‘টম’ আর স্ত্রী জাতীয় টার্কিকে ডাকা হয় ‘হেন’ নামে। টার্কিরা ‘এভিস’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ফ্যাসিয়েনিডি (Phasianidae) পরিবারভুক্ত মিলি এগ্রিসদের গ্যালাপাভো প্রজাতির পাখি। এদের বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, তখন এদের মুরগির বাচ্চার মতো দেখালেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এদের চেহারা ও আকৃতি বদলে যায়। টার্কি পাখির মাংসের স্বাদ মুরগির মাংসের মতোই। তবে ঝোল দিয়ে রান্না করা মাংসের চেয়ে রোস্ট করে খেলে বেশি স্বাদ পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কি পাখি খুবই উপযুক্ত। এদের মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিংক, লৌহ, ভিটামিন-বি-৬, ভিটামিন-ই, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম থাকে। এসব উপাদান আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় খুবই কার্যকর। নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরেল কমে যায়। তাছাড়া টার্কির মাংসে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ট্রিপট্রোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিম উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ এদের ডিম উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। পাঁচ-ছয় মাস বয়স থেকে এরা ডিম পাড়া শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

টার্কি পাখিরা খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। একটি ছয় মাস বয়স্ক পুরুষ টার্কির ওজন হয় অন্তত আট কেজি আর স্ত্রী টার্কি সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় কেজি হয় । আমাদের দেশের আবহাওয়া টার্কি পাখি পালনের জন্য উপযুক্ত। এদের মুক্ত রেখে অথবা খাঁচার ভেতর রেখে লালনপালন করা যায়। এরা খুব নিরীহ ধরনের পাখি আর দেখতেও খুব সুন্দর। পুরুষ টার্কিরা ময়ূরদের মতো পেখম মেলে রাজকীয় ভঙ্গিতে চলাফেরা করে।

এবার বলি টার্কিদের খাবারের কথা। এদের খাবারের মধ্যে রয়েছে নরম ঘাস, নরম লতাপাতা, কেঁচো, পোকামাকড়, শামুকের বাচ্চা, উইপোকা আর রান্নাঘর থেকে ফেলে দেওয়া বর্জ্য ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন