বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রত্যেকটি জাতির একটি নিজস্ব স্বকীয় তাহজীব-তামাদ্দুন, সাহিত্য-সংস্কৃতি থাকে। আমরা আসলে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন এবং ধারণ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি, আর অপসংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এটাকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ। এটার প্রতিবাদ কেবল মুখের বক্তব্য দিয়ে হবে না, বরঞ্চ সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে যদি উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তখনই কেবল একটা জাতিকে সুস্থ তামাদ্দুন বা সংস্কৃতির উপর দাঁড় করানো সম্ভব। মানুষকে মানুষ বানাতে হলে, সন্তানদেরকে মানুষ বানাতে হলে আমাদেরকে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল ও কাওয়ালি সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, নাত ও কাওয়ালী সন্ধ্যার পাশাপাশি সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। রাসূলের (সা.) আদর্শের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখব যে, এটা যতটা সামাজিক আন্দোলন ছিল, তার চাইতে বেশি ছিল সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ধারণাগত পরিবর্তন আনাটাই ছিল মূল বিপ্লব এবং আল্লাহ তা‘আলার অতি মেহেরবানীতে সেই বিপ্লবটা রাসুলের (সা.) হাতে সফলভাবে সাধিত হয়েছিল। রাসুলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সমাজের সব জায়গায়, সব ক্ষেত্রে বাস্তব আদর্শটাই উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা শুধু মুসলমানদের জন্য কোরআন নাজিল করেন নাই, এমনকি শুধু মানুষের জন্য কোরআন নাজিল করেন নাই; এ কোরআন তার তামাম সৃষ্টির শৃঙ্খলা বিধানের জন্য আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন। এ কোরআনকে যারা অনুসরণ করবে তারা নিজেরাই সৌভাগ্যবান হবে, যে জাতি অনুসরণ করবে সে জাতি গৌরবময় হবে; আর যারা এটা ছেড়ে দিবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপদস্ত হবে, সেই চিত্রই সারা বিশ্বে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদেরকে ফিরে আসতে হবে মূল শিক্ষার দিকে—যেটা আমাদের তামাদ্দুনিক শিক্ষা, যেটা আমাদের মনোজগত পরিবর্তনের শিক্ষা, যেটা আল্লাহ এবং তার বান্দার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার শিক্ষা, যেটা সৃষ্টির মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে নির্মল পবিত্র ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে দেওয়ার শিক্ষা। এই শিক্ষা যে সমাজে বাস্তবায়ন হবে সেখানে মানুষ পরস্পরকে সম্মানও করবে, ভালোবাসবে।
শিক্ষকদের সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আমি যার কাছ থেকে শিখবো তাকে আমি সম্মান করবো না? কিন্তু এখন আমাদের কালচার কি শিক্ষা দিচ্ছে? আমাদের কালচার শিক্ষা দিচ্ছে—কলেজের প্রিন্সিপালকে টেনে টেনে হাতে ধরে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, কুয়েটের শিক্ষককে হত্যা করা হয়- এটা হলো অপসংস্কৃতির প্রভাব। দেশীয় সংস্কৃতি সংসদকে নানা উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন ও শুকরিয়া জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, নাত ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান এমপি, অধ্যাপক মোক্তার আলী এমপি, কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দেশ-বরেণ্য গুণীজনরা। জমকালো এ আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
উল্লেখ, পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দেশীয় দেশব্যাপী আয়োজন করে ‘নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার। তিন বিভাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কয়েকশ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে বিজ্ঞ বিচারকদের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং দর্শকদের ভিউ ও কমেন্টের বিচারে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ বাছাই করা হয়। এ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট, সনদ তুলে দেয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


