হরমুজ সংকটেও যেভাবে তেলের বাজারের চাপ সামলাল চীন

 হরমুজ সংকটেও যেভাবে তেলের বাজারের চাপ সামলাল চীন
পূর্ব চীনের চিংদাও বন্দরের একটি টার্মিনালে একটি তেল ট্যাঙ্কার হতে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল খালাস করা হচ্ছে ১৬ জুলাই ২০২৬। ছবি: এএফপি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রত্যাশার তুলনায় কম ধাক্কা লাগার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে চীনের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বের দৈনিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। কিন্তু প্রণালিটি বন্ধ হওয়ার ছয় মাস পরও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের আনুমানিক ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

তারপরও আগের কয়েকটি বড় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়নি।

১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের মাত্র ৭ শতাংশ ব্যাহত হলেও দাম প্রায় চার গুণ বেড়েছিল। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের সময়ও সরবরাহের মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়।

এর বিপরীতে, বর্তমান সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বছরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬০ ডলার থেকে বেড়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রায় ৮৫–৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে চীনের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে উল্লেখ করা হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পরও চীন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার পরিবর্তে নিজেদের মজুত ব্যবহার করছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশটির অতিরিক্ত চাহিদা বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করছে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন