যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ওপর ভর করেই চীনের রোবট কুকুর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবোটিকস দ্রুত বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চারপেয়ে রোবটের চলাচল ও নকশা নিয়ে যে গবেষণা হয়েছিল, তার সঙ্গে ইউনিট্রির জনপ্রিয় ‘গো’ সিরিজের রোবটের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াসহ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা এই প্রকল্পে কাজ করেন। গবেষকদের একজন বেন কাটজ জানিয়েছেন, ইউনিট্রির রোবট কুকুরের নকশা এমআইটির তৈরি ‘মিনি চিতা’ রোবটের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অর্থায়নে ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘রোবোটিকস কোলাবরেটিভ টেকনোলজি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি গবেষণা কর্মসূচি চালানো হয়। এতে এমআইটি, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নাসা ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল, যাতে বিশ্বজুড়ে রোবোটিকস প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এসব উদ্ভাবন বড় পরিসরে উৎপাদনে রূপ নিতে পারেনি। বিপরীতে চীন দ্রুত প্রযুক্তিগুলো কাজে লাগিয়ে কম খরচে ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে। ২০২৩ সালে বাজারে আসা ইউনিট্রির ‘গো২’ মডেলটির দাম প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার। কম দামের কারণে এটি বিশ্ববাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ইউনিট্রির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ১৮ হাজারের বেশি চারপেয়ে রোবট এবং ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি মানবসদৃশ রোবট বিক্রি করেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে থাকলেও বড় আকারে উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। চীনের সরকারি সহায়তা, কম্পোনেন্ট উৎপাদনকারী কারখানার বিশাল নেটওয়ার্ক এবং দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা ইউনিট্রির মতো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইউনিট্রির রোবট কুকুর চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মহড়ায় অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের রোবট মূলত বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট্রিকে চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কোম্পানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত গবেষণা গোপন রাখার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত এসব উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। তাদের আশঙ্কা, শুধু চীনা প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

