মৌসুমি ফ্লু, কোভিড-১৯ কিংবা যেকোনো ভাইরাল সংক্রমণের পর জ্বর, শরীরব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসগুলো অনেক সময় কেবল শ্বাসতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং হৃদযন্ত্রেও প্রদাহ সৃষ্টি করে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রিপেন গুপ্তার তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের প্রভাবে হৃদপেশির প্রদাহ (মায়োকার্ডাইটিস) অথবা হৃদযন্ত্রের বাইরের আবরণের প্রদাহ (পেরিকার্ডাইটিস) হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হৃদযন্ত্রের প্রদাহ বা জটিলতা বোঝাতে বিশেষজ্ঞগণ প্রধানত ৫টি সতর্ক সংকেতের কথা বলেছেন:
বুকে তীব্র ব্যথা: বিশেষ করে শুয়ে থাকা অবস্থায় ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সামনের দিকে ঝুঁকলে কিছুটা উপশম হওয়া হৃদযন্ত্রে প্রদাহের অন্যতম লক্ষণ।
অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট: সামান্য হাঁটাচলা, বাথরুমে যাওয়া বা বিশ্রামের সময়ও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
দ্রুত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করা: জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও যদি হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়, বুক ধড়ফড় করে বা স্পন্দন অনিয়মিত হয়, তবে তা হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
পা ফুলে যাওয়া ও দ্রুত ওজন বৃদ্ধি: পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় হঠাৎ ফোলাভাব দেখা দেওয়া এবং মাত্র এক-দুই দিনের মধ্যে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া শরীরে তরল জমে যাওয়ার লক্ষণ, যা দুর্বল হৃদযন্ত্রের কারণে হয়ে থাকে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা: ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার সময় ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পাওয়ার কথা। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার বড় ইঙ্গিত।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় কোভিড-১৯–এর পর হৃদপেশির প্রদাহের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই ভাইরাল সংক্রমণের পর এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তা সাধারণ অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো রোগ নির্ণয় করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


