শীতের তিন মাস—ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে ফিরে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। দীর্ঘদিন ঠান্ডায় মানিয়ে নেওয়ার পর হঠাৎ উষ্ণ আবহাওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শীতকালে নিষ্ক্রিয় থাকা জীবাণু বসন্তে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বসন্তে যে রোগগুলো বৃদ্ধি পায়—
সর্দি
কারণ : হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন, ধুলাবালি, ভাইরাস সংক্রমণ।
লক্ষণ : নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ।
জটিলতা : সাইনাস প্রদাহ, শ্বাসনালির সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : গরম পানি বা আদা চা পান, নাক পরিষ্কার রাখা।
কাশি
কারণ : ভাইরাস ও ধুলাবালি।
লক্ষণ : শুকনো বা শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি।
জটিলতা : দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ফুসফুসের প্রদাহ।
ঘরোয়া পরামর্শ : গরম পানীয়, অযথা ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলা।
সাধারণ জ্বর
কারণ : ভাইরাস সক্রিয় হওয়া।
লক্ষণ : হঠাৎ জ্বর, দুর্বলতা।
জটিলতা : কমজোরি, অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি।
ঘরোয়া পরামর্শ : বিশ্রাম, প্রচুর পানি, হালকা খাবার।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
কারণ : ফুলের পরাগরেণু ও ধুলাবালি।
লক্ষণ : হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া।
জটিলতা : হাঁপানি, চোখের সমস্যা।
ঘরোয়া পরামর্শ : ঘরে পরাগরেণু কমানো, মুখে মাস্ক ব্যবহার।
হাঁপানি
কারণ : পরাগরেণু, ধুলাবালি, আর্দ্রতা।
লক্ষণ : শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুক ফাঁপা।
জটিলতা : গুরুতর শ্বাসকষ্ট।
ঘরোয়া পরামর্শ : ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শ্বাসব্যায়াম।
চোখের সংক্রমণ
কারণ : ধুলাবালি ও সংক্রমণ।
লক্ষণ : লালচে চোখ, পানি পড়া, জ্বালা।
জটিলতা : কর্নিয়ার ক্ষতি, সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : চোখ পরিষ্কার রাখা, ঠান্ডা পানি।
ত্বকের অ্যালার্জি
কারণ : সূর্যের আলো, ভাইরাস, ধুলাবালি।
লক্ষণ : ফুসকুড়ি, লালচে ভাব, চুলকানি।
জটিলতা : সংক্রমণ, স্থায়ী দাগ।
ঘরোয়া পরামর্শ : ত্বক পরিষ্কার রাখা, হালকা লোশন ব্যবহার।
দাদ
কারণ : আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক বৃদ্ধি।
লক্ষণ : ত্বকে লালচে রিং, চুলকানি।
জটিলতা : দীর্ঘস্থায়ী দাগ ও সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : শুকনো রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার করা।
ছত্রাকজনিত চুলকানি
কারণ : আর্দ্রতার সংস্পর্শে থাকা।
লক্ষণ : ভাঁজযুক্ত স্থানে চুলকানি।
জটিলতা : ক্ষত ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় পরা।
গলাব্যথা
কারণ : ঠান্ডা পানীয়, ধুলাবালি।
লক্ষণ : গলাব্যথা, গলা খুসখুস।
জটিলতা : কণ্ঠনালির প্রদাহ।
ঘরোয়া পরামর্শ : গরম লেবু পানি, বিশ্রাম।
টনসিলের প্রদাহ
কারণ : ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া।
লক্ষণ : গলাব্যথা, জ্বর, খেতে কষ্ট।
জটিলতা : খাদ্যগ্রহণে অসুবিধা, জটিল সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : গরম পানি গার্গল, বিশ্রাম।
ডেঙ্গুজ্বর
কারণ : বসন্তের শেষভাগে মশা।
লক্ষণ : হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা।
জটিলতা : প্লাটিলেট কমে রক্তক্ষরণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : মশা দমন, পরিষ্কার পানি।
চিকুনগুনিয়া
কারণ : মশাবাহিত ভাইরাস।
লক্ষণ : জ্বর, তীব্র গাঁটব্যথা।
জটিলতা : দীর্ঘস্থায়ী গাঁটব্যথা।
ঘরোয়া পরামর্শ : বিশ্রাম, গরম পানীয়।
ডায়রিয়া
কারণ : অস্বাস্থ্যকর খাবার, দূষিত পানি।
লক্ষণ : বারবার পেটে দৌড়, জলমিশ্রণ।
জটিলতা : পানিশূন্যতা, দুর্বলতা।
ঘরোয়া পরামর্শ : ভেজালমুক্ত পানি, ওআরএস।
বমি
কারণ : সংক্রমণ বা নষ্ট খাবার।
লক্ষণ : বমি বমি ভাব, পেটব্যথা।
জটিলতা : দুর্বলতা, ওজন হ্রাস।
ঘরোয়া পরামর্শ : হালকা খাবার, বিশ্রাম।
মূত্রনালির সংক্রমণ
কারণ : কম পানি পান, জীবাণু সংক্রমণ।
লক্ষণ : পেশিবেদনা, বারবার প্রস্রাব।
জটিলতা : কিডনির সংক্রমণ।
ঘরোয়া পরামর্শ : পর্যাপ্ত পানি, স্যানিটেশন বজায় রাখা।
মাথাব্যথা
কারণ : হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন, পানিশূন্যতা।
লক্ষণ : মাথা ভারী হওয়া, ক্লান্তি।
জটিলতা : মানসিক চাপ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া।
ঘরোয়া পরামর্শ : পর্যাপ্ত পানি, বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম।
শরীর ব্যথা
কারণ : ঋতু পরিবর্তনে পেশির ক্রিয়া কমে যাওয়া।
লক্ষণ : পেশি ব্যথা, ক্লান্তি।
জটিলতা : দৈনন্দিন কাজে অনীহা।
ঘরোয়া পরামর্শ : হালকা ব্যায়াম, গরম সেঁক।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

