আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাক্ষাৎকার

গর্ভাবস্থায় ইনফেকশনে হতে পারে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ

এন আই মানিক

গর্ভাবস্থায় ইনফেকশনে হতে পারে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ

বর্তমানে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের হার আগের তুলনায় একটু বেশিই দেখা যায়। হাজারে ৮-১০ জন শিশুর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলছে। কিছু রিপোর্টে এর হার আরো বেশিও বলা হচ্ছে। আজ শিশুদের হৃদরোগ সমস্যা নিয়ে হ্যালো ডাক্তার বিভাগে আমরা কথা বলব শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ তানভীর ইসলাম-এর সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : শিশুদের হৃদরোগ এটি কি জন্মগত নাকি পরে হয়?

উত্তর : শিশুদের হৃদরোগ সাধারণত দুই প্রকার। একটি হলো জন্মগত হৃদরোগ, আরেকটি জন্ম-পরবর্তী অর্জিত হৃদরোগ। জন্মগত হৃদরোগ বলতে বাচ্চা মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই যে হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়। এ রোগগুলোর মধ্যে আমরা হার্টে বিভিন্ন ধরনের ছিদ্র : যেমন—এএসডি, ভিএসডি, পিডিএ—এমন অনেক সমস্যা, হার্টে ভালভের সমস্যা, হার্টের বিভিন্ন অংশের অবস্থানগত পরিবর্তন অথবা জন্মগতভাবেই হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়াকে বোঝায়। আর জন্ম-পরবর্তী সময়ে যে হৃদরোগ, এর মধ্যে বাতজ্বর, বিভিন্ন ইনফেকশনের কারণে হার্টে সমস্যা—এ ছাড়া হার্টের বিভিন্ন ধরনের টিউমারকে বোঝায়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হৃদরোগের সাধারণ কারণগুলো কী কী?

উত্তর : বাংলাদেশে কিন্তু শিশু হৃদরোগের হার কম নয়, প্রতি হাজারে ৮-১০ জন বাচ্চা শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মাচ্ছে। কিছু কিছু রিপোর্টে আসে, হাজারে ১৮ জন এই রোগ নিয়ে জন্মাচ্ছে। যারা এই রোগগুলো নিয়ে জন্মাচ্ছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণটা আমরা জানতে পারি না বা অজানা থেকে যায়। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও অনেক ক্ষেত্রে কারণ অজানা থেকে যায়। তবে যেসব কারণ শনাক্ত হয়, তার মধ্যে জেনেটিক কিছু কারণ পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় মায়ের যদি অপুষ্টি থাকে, ভাইরাল কোনো ইনফেকশন হয়, মা-বাবা বা অন্য ভাইবোনের হার্টে সমস্যা থাকলেও বাচ্চার হতে পারে। এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পরিবেশদূষণ। সেই সঙ্গে খাদ্যে ভেজালের মতো কারণও থাকে।

প্রশ্ন : শিশুদের হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী, যা অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়াল করা উচিত?

উত্তর : এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণত চার-পাঁচটি কারণ আমরা বলি। বাচ্চার ঘন ঘন ঠান্ডা-কাশি হওয়া, অল্পতেই নিউমোনিয়া হয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ হলো, বাচ্চা একটু হাঁটাহাঁটি করলে বা দৌড়ালে অল্পতেই হয়রান হয়ে যায়। নবজাতকরা বুকের দুধ খাওয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে যায়, থেমে থেমে খায়। তৃতীয় কারণ হলো, বাচ্চারা কোনো কাজ করার সময় বা খেলাধুলার সময় অনেক ঘেমে যায়। কান্না করার সময়ও ঘামে। চতুর্থ কারণ হলো, অন্য বাচ্চার তুলনায় বাচ্চার গ্রোথ বা ওজন বাড়ে না। এছাড়া কিছু জন্মগত রোগ আছে, যেগুলোর কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাচ্চা হঠাৎ করে নীলচে বা কালচে হয়ে যায়। বিশেষ করে, বাচ্চার জিহ্বা, ঠোঁট, হাতের আঙুল নীলচে হয়ে যায়।

প্রশ্ন : শিশু হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য কোন কোন আধুনিক পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর?

উত্তর : প্রাথমিকভাবে কিছু কমন পরীক্ষা করা হয়। প্রথমত, একটি এক্সরে করলে বোঝা যায় হার্টে সমস্যা আছে কি না। তারপর একটি ইসিজি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এছাড়া আমরা কমন যে পরীক্ষা করে থাকি তা হলো, ইকো কার্ডিওগ্রাফি। যদিও আগে এটি কম করা হতো, এখন আমরা অনেক শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছি, তাই এই পরীক্ষাটি করি। ইকো করে আমরা সমস্যা কতটুকু আছে তা শনাক্ত করি, চিকিৎসার জন্য অনেক সময় বাচ্চাদের এনজিওগ্রাম করতে হয়।

প্রশ্ন : জন্মগত হৃদরোগ কি সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা বা সার্জারির মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব? আমাদের দেশে কি এই চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে?

উত্তর : কিছু কিছু জন্মগত হৃদরোগ নিজ থেকেই ভালো হয়। আবার কিছু সমস্যা ওষুধ খাবার পর বাচ্চার যদি অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে ভালো হয়। আবার কিছু হৃদরোগের কাটাছেঁড়া ছাড়া আমরা ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে বাচ্চাদের হার্টে ডিভাইস বা বোতাম পরাই, বেলুন করি, স্টেন্টিং করি । অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চা সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হয়ে যায়, কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হয়। দেশে আমরা সফলভাবে সব ধরনের চিকিৎসাই করে থাকি, হয়তো দু-একটি জটিল সমস্যা হলে তখন বিশ্বের উন্নত কোনো দেশের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয় অথবা হয়তো বিদেশে পাঠানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...