দেশে স্তন ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের বার্তা নিয়ে পালিত হলো ১৪তম স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা সচেতনতার পাশাপাশি সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন, ক্যানসার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যানসার কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় হুমকি।
প্রতি বছর আমাদের দেশে হাজার হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, স্তন ক্যানসার কোনো অসাধ্য রোগ নয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শতভাগ নিরাময় সম্ভব। লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রোগ্রামে আগে থেকেই তিনি জড়িত আছেন। দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সংকট আছে। তবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির সীমিত সুবিধার মধ্যেই বেশি সংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত হবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করার মাধ্যমে। মূল বক্তব্যে অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, এই প্রথম সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রোগ প্রতিরোধের ওপর প্রাধান্য দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলছেন। তাই আমরা আশাবাদী হতে চাই। প্রতিরোধ ও সূচনায় নির্ণয়ের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত শতকরা ৪০ ভাগ বরাদ্দের দাবি জানান ডা. রাসকিন। তিনি সরকারি ক্যানসার চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দেশের বিত্তবানদের প্রতি অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যানসার হাসপাতাল গড়ার আহ্বান জানান।

স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শেষে শাহবাগ থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের ও অন্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

