রাকসুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

রাকসুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ফান্ডের সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, খাতবিহীন অর্থ উত্তোলন, আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহিতা, দায়ীদের বিচার এবং অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রদল।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর শাখা ছাত্রদলের সভাপতির সাক্ষরিত এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।

এসময় সাত দফা দাবি জানিয়েন তারা। সেগুলো হলো- রাকসু ফান্ড থেকে উত্তোলিত প্রায় সোয়া কোটি টাকার প্রতিটি টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। কোন খাতে, কত টাকা, কখন এবং কার অনুমোদনে উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে তা জানাতে হবে। খাত না দেখিয়ে, যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া কিংবা নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণ না করে উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

রাকসু ফান্ডের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, চেক উত্তোলন সংক্রান্ত নথি, বিল-ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত (অডিট) করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত (অডিট) কমিটি গঠন করতে হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে অর্থের বৈধ ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া যাবে না অথবা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয়/আত্মসাৎ প্রমাণিত হবে, সেই সমুদয় অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে পুনরায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএস সহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে কোন টাকা উত্তোলন করে তার বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তোলন করবো। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে টাকাটি ব্যয় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

স্মারকলিপির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন