উপসাগরে নতুন একটি নিষিদ্ধ এলাকা এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌযান চলাচলের করিডরের মানচিত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সপ্তাহের শেষে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নিষিদ্ধ এলাকার ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি জানান, ওই এলাকা শুরু হবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার স্থান থেকে এবং সেখান থেকে উপসাগরের আরও কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত হবে।
পরিকল্পনার বিস্তারিত খুব বেশি জানানো হয়নি। তবে রেজায়ি বলেন, নতুন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথের মানচিত্রও শিগগির অনুমোদন করা হবে বলে জানান তিনি। সংঘাতের কারণে প্রণালিটির বড় অংশ বর্তমানে ট্যাংকার চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে।
রেজায়ি বলেন, ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি নতুন আন্তর্জাতিক করিডরের মানচিত্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। এই করিডর ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নাশকতা, হুমকি ও হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না তেহরান বলে সতর্ক করেন রেজায়ি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও সংঘাতটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়েছে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
আগস্টের বড় একটি সময় সামরিক তৎপরতায় বিরতি থাকলেও সম্প্রতি আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালায়।
তেহরান এখনও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সোমবারের নৌপরিবহণ তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে গত সপ্তাহের বড় উত্থানের ধারাবাহিকতায় সোমবারও তেলের দাম বেড়েছে; ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


