গত ৬ মাসে হাজার হাজার বেকার এবং দিনে গড়ে ১০ জন খুনের ঘটনা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতারই সাক্ষ্য দেয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিল, এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করেছিল, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল। তাদের সরকার গঠনের পরে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণও প্রকাশ পায়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে শুধু আরএমজি খাতেই বেকার হয়েছে ২০ হাজারের মতো মানুষ, প্রতিদিন গড়ে দশজন করে মানুষ খুন হচ্ছে, লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয় মাস সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।
শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
চরমোনাই পীর বলেন, মানুষ হত্যার পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার করলেও কোনো বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অপরাধ সংঘটনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংঘটনের আগেই অপরাধী নিষ্ক্রিয় হবে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতে সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। আমরা বারবার বলে আসছি, দেশে সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমাদের দাবি ছিল, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সাধন করে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, যদি সরকার সংস্কার না করে, তাহলে যে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তার দায় এই সরকারকে নিতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


