কিডনিতে পাথর এখন শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেও ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তবে উপসর্গগুলো উপেক্ষা করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয় জানিয়েছেন, কিডনিতে পাথরের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো কোমরের নিচের অংশ বা পিঠের এক পাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা তলপেট বা কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়ে এবং এতটাই তীব্র হতে পারে যে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে যায়।
এ ছাড়া পাথর মূত্রনালিতে চলে এলে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসইউরিয়া বলা হয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কিডনিতে পাথরের কারণে অনেকের প্রস্রাবে রক্তও দেখা যেতে পারে। এতে প্রস্রাবের রং লাল, গোলাপি বা বাদামি হয়ে যেতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে রক্তের পরিমাণ এত কম থাকে যে তা খালি চোখে ধরা পড়ে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রের স্নায়ুর পারস্পরিক সংযোগের কারণেই এমন উপসর্গ দেখা দেয়।
অন্যদিকে, কিডনিতে পাথরের সঙ্গে সংক্রমণ যুক্ত হলে জ্বর ও কাঁপুনি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা থাকলে তা গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। এতে জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি কিডনির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


