গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে ঘোষিত লংমার্চকে কেন্দ্র করে বিশাল সমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরী এবং লালদীঘি ময়দান এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। সমাবেশ উপলক্ষে লালদীঘি মাঠে বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিকাল গড়াতেই লাখ লাখ নেতাকর্মীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে লালদীঘি ময়দান এমন প্রত্যাশা ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের আগমন সূত্র জানায়, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফেনীসহ উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা থেকে আজ সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মিছিল ও গাড়িবহর নিয়ে নগরে প্রবেশ করছেন। লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর চকবাজার, চান্দগাঁও ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো নগরী এখন পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনীর মহিপাল ও মিরসরাইসহ পাঁচটি পথসভা সম্পন্ন করে বিকেলে কেন্দ্রীয় নেতারা লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবেন। বিকাল সাড়ে ৫টার পর মঞ্চে উঠবেন জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, দলটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবি জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে, যা বাস্তবায়ন করাই আমাদের উদ্দেশ্য। কাউকে বিব্রত করা বা সরকার পতনের জন্য এই আন্দোলন নয়, তবে দাবি আদায়ে আমরা অবিচল।’
তিনি আরও বলেন, তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার, নোয়াখালী ফেনী কুমিল্লা থেকে এবং জেলার ১৫টি উপজেলা থেকে ইতিমধ্যেই নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম নগরীতে এসে গেছে। দুপুর তিনটার আগে কানায় কানায় পূর্ণ হবে লালদীঘি এলাকা। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার পর মঞ্চে উঠবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা আসলে মূল সমাবেশ শুরু হবে। লং মার্চ ঘিরে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ছয় দফা দাবি জনগণের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য।
কাউকে পতন ঘটনো বা বিব্রত করতে আমাদের এই আন্দোলন নয়, আমাদের আন্দোলন জনগণের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য।
জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে গতকালই আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নগরে যেন যানজট দেখা না দেয় সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যানবাহনের সংখ্যা অনেক কমিয়ে ফেলা হয়েছে। বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে শহরের অদূরে যানবাহন রেখে সমাবেশ স্থলে পায়ে হেঁটে আসতে বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনীর মহিপাল ও মিরসরাসহ পাঁচটি পথসভা শেষে বিকাল গড়াতেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবেন। আমরা সরকারকে বার্তা দিতে চাই, আর কেউ বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারবেনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে হবে, দ্রব্যমূল্যের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল থেকে নগরের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক লং মার্চের সাক্ষী হতে যাচ্ছে আজ। এখানে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয় আপামর জনসাধারণ অংশ নেবে সরকার দেশ পরিচালনায় সবদিক থেকে সরকার ব্যর্থ হয়েছে৷ সেই ব্যর্থতার কড়া জবাব আজ দেওয়া হবে৷
এমএইচ
রিপোর্ট: এম কে মনির, চট্টগ্রাম
০১৩১৭৬৬১২৯৪
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-2835ff-720x405.webp)