বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর ফের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরলেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।
সোমবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে এক সাংবাদ সম্মেলনে কাসেম সিদ্দিকী স্পষ্ট করে জানান, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যাওয়ার প্রসঙ্গে কাসেম বলেন, তিনি মনে করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের নেত্রী হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু পরে সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মমতার কোনো যোগাযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, আমি ভেবেছিলাম দিদি সেখানে আছেন। পরে দেখলাম, দিদি সেখানে নেই। কোথাও তার কোনও চিহ্ন নেই। মানুষ দিদির জন্য ভোট দিয়েছেন। আমডাঙায় আমি দিদির পোস্টার নিয়ে প্রচার করেছি। দিদি যেখানে, আমরাও সেখানে।
কাসেম আরো জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তাদের মাত্র একটি বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের নেত্রী থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির মধ্যেই তাদের দিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে দাবি তার। পরে তারা বুঝতে পারেন, সেটি আসলে পৃথক একটি গোষ্ঠী।
কুণাল ঘোষও অভিযোগ করেন, বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যে কারণ দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, তার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
কাসেম সিদ্দিকী আমডাঙার বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা হিসেবে পরিচিত। তিনি ফুরফুরা শরিফের ‘বড় পির’ আবু বকর সিদ্দিকীর বংশধর। ২০২৪ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমডাঙা আসনে বিজেপির অরিন্দম দেকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন কাসেম। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমডাঙার প্রার্থী হিসেবে রফিকুর রহমানের পরিবর্তে কাসেম সিদ্দিকীকে মনোনীত করেছিলেন।
কাসেম সিদ্দিকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফেরার দিনই অবশ্য রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দেখা দিয়েছে। প্রাক্তন আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান এদিন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে একদিকে কাসেমের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে রফিকুরের বিদ্রোহী শিবিরে বৈঠক—দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


