যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আবেদন আবারও নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আবেদন আবারও নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট
ই জিন ক্যারল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে অভিযুক্ত করে দেওয়া দেওয়ানি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিলের আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো খারিজ করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার প্রকাশিত আদালতের আগস্টের আদেশ তালিকায় ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করা হয়। এর আগে গত জুনে আদালত ২০২৩ সালের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ওই মামলায় একটি জুরি ট্রাম্পকে ১৯৯৬ সালে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে তাকে মানহানি করার জন্য দায়ী করেন। একই সঙ্গে তাকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আবারও মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা সন্তুষ্ট।

তার ভাষ্য, জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত। কোনো আদালতে আর এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

তবে ট্রাম্পের আবেদন কেন খারিজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন আদালত মোট ৩৩টি পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করেন।

জুনে ট্রাম্পের আপিল খারিজ হওয়ার পর ক্যারল প্রায় ৫৮ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ ও সুদ পেয়েছেন।

২০১৯ সালে আইনি লড়াই শুরু

ক্যারল ও ট্রাম্পের আইনি লড়াই শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছর ক্যারল তার স্মৃতিকথার একটি অংশ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের বার্গডর্ফ গুডম্যানের একটি পোশাক পরিবর্তনকক্ষে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন।

ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ক্যারলকে ‘পাগল’ এবং ‘তার পছন্দের নারী নন’ বলেও মন্তব্য করেন।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ৫৮ লাখ ডলারের মামলাটি হয়। ওই সময় ট্রাম্প ক্যারলের অভিযোগকে ‘ভুয়া’ ও ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

এদিকে ২০২৪ সালে পৃথক একটি মানহানি মামলায় জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছেন।

ট্রাম্পের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। ফলে ওই বক্তব্যের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন