সারাক্ষণ মোবাইল ডাটা চালু রাখলে যে সমস্যা হতে পারে

সারাক্ষণ মোবাইল ডাটা চালু রাখলে যে সমস্যা হতে পারে

স্মার্টফোন এখন যোগাযোগ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন—দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও ফোনের মোবাইল ডাটা সবসময় চালু রাখেন। তবে এই অভ্যাসের কারণে অজান্তেই বাড়তে পারে ডেটা খরচ, দ্রুত কমতে পারে ব্যাটারি এবং কখনো কখনো ফোনের ওপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা খরচ

ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও অনেক অ্যাপ পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, নিউজ, আবহাওয়া কিংবা শপিং অ্যাপ নিয়মিত সার্ভারের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। ফলে নতুন মেসেজ, নোটিফিকেশন ও অন্যান্য তথ্য আপডেট করার সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার হয়। এতে ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও ডেটা প্যাক থেকে কিছুটা খরচ হতে পারে।

ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে

মোবাইল ডাটা চালু থাকলে ফোনকে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে হয়। বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় সংযোগ ধরে রাখতে ফোন তুলনামূলক বেশি শক্তি ব্যয় করতে পারে। এর সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকলে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

ফোন উষ্ণ হতে পারে

মোবাইল ডাটা চালু থাকার পাশাপাশি অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করলে প্রসেসর ও নেটওয়ার্ক মডেমের কাজের চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় এভাবে চললে ফোন কিছুটা গরম হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু মোবাইল ডাটা চালু রাখলেই ফোনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

দ্রুত শেষ হতে পারে ডেটা প্যাক

স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক, ক্লাউড ব্যাকআপ, অ্যাপ আপডেট এবং ভিডিও কনটেন্ট প্রিলোডের মতো বিভিন্ন কাজ ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে পারে। এসব কার্যক্রমের পরিমাণ ফোনের অ্যাপ ও সেটিংসের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ডাটা চালু রাখলে মাসিক ডেটা প্যাক প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাড়তে পারে নোটিফিকেশনের বিড়ম্বনা

ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় থাকলে বিভিন্ন অ্যাপ থেকে নিয়মিত নোটিফিকেশন আসতে থাকে। ফোনে বেশি অ্যাপ থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বারবার শব্দ, ভাইব্রেশন বা স্ক্রিন জ্বলে ওঠা কাজে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাতে ঘুমের সময়ও এটি বিরক্তির কারণ হতে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

ফোন ব্যবহার না করার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ডাটা বন্ধ রাখা সবচেয়ে সহজ সমাধান। যারা সবসময় ডাটা চালু রাখতে চান, তারা ফোনের Data Saver বা Background Data Restriction সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

এ ছাড়া সেটিংস থেকে কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করে দেখা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় আপডেট বন্ধ রাখা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ করেও ডেটা ও ব্যাটারি সাশ্রয় করা সম্ভব।

অর্থাৎ, সারাক্ষণ মোবাইল ডাটা চালু রাখলেই দামি স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া ডাটা চালু রাখার অভ্যাস ব্যাটারি ও মোবাইল ডাটার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বাড়াতে পারে। সচেতনভাবে ফোনের সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে এই বাড়তি খরচ ও ব্যাটারির ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন