ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি পদ্মা নদী থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করায় যেকোনো সময় তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবিতে পদ্মা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন শত শত শিক্ষার্থী।
এ সময় ভাঙন রোধ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষার দাবীতে পদ্মা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীরা। এসময় ভাঙন প্রতিরোধের দাবীতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা কৃষিজমি হারিয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শয়তান খালী ঘাটের পদ্মা নদীর পাড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন চলছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে একের পর এক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পদ্মা নদী থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে রয়েছে। এই স্কুল নদীগর্ভে হারিয়ে গেলে আমাদের স্বপ্ন ও হারিয়ে যাবে। আমাদের স্কুল নদীতে হারিয়ে গেলে এই এলাকায় শিক্ষার আলো নিভে যাবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনই নদী ভাঙনের একমাত্র কারণ। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। এসময় শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নদী ভাঙন রক্ষায় বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী শিকদার জানান, নদী-ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময়ে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগসহ নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। ফলে পদ্মা নদী এখন আমাদের স্কুল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে রয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আতংকে দিন পার করছে। আমরা চাই স্থায়ী বাধ নির্মাণ করে আমাদের স্কুল সহ ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষায় সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তাছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বালু উত্তোলনের কারণে নদীর ভাঙন আরো তীব্রতর হয়।
মানব বন্ধনে দিয়ারা নারকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সর্দার বলেন, আদর্শ জনসংঘ স্কুল, পিয়াজখালী বাজার রক্ষায় শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়,পদ্মা নদীর ভাঙন-কবলিত এলাকায় দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদী-শাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, নদী-ভাঙন আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা কেড়ে নিচ্ছে। এখন আমাদের প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনসংঘ স্কুল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্কুল টি রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন অনিশয়তার মধ্যে পরবে।
আমরা আর কোনো পরিবারের স্বপ্ন হারাতে দেখতে চাই না। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

