বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট সেন্সর ও অত্যাধুনিক রাডার প্রযুক্তি, তখন বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করছে পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে সীমিত দক্ষতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে দেশের বোমা শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি আধুনিক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় বিমানবন্দর, মেট্রোরেল, স্টেডিয়াম, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সীমান্ত এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে এআইভিত্তিক স্ক্যানার, বিস্ফোরক শনাক্তকারী সেন্সর, ড্রোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় রাডার প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অধিকাংশ নিরাপত্তা তল্লাশি নির্ভর করছে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও সীমিত প্রযুক্তির ওপর।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা আতঙ্কের ঘটনা সামনে এসেছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিকবার বোমা আতঙ্কের ঘটনায় জরুরি তল্লাশি চালাতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। যদিও পরে অনেক ক্ষেত্রেই হুমকির সত্যতা পাওয়া যায়নি, তবু এসব ঘটনা দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে শুধু অস্ত্র বা জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। বিশেষ করে, রিমোট কন্ট্রোল বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত বিস্ফোরক শনাক্ত করতে উন্নত সেন্সর ও ইলেকট্রনিক নজরদারি অপরিহার্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে প্রযুক্তিনির্ভর বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী। বর্তমানে দেশে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাইবার হামলা, ম্যালওয়্যার সংক্রমণ এবং দুর্বল নিরাপত্তা অবকাঠামো দেশের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইসরাইলের ‘আয়রন ডোম’, ভারতের এস-৪০০ কিংবা বিভিন্ন দেশের এআইভিত্তিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের মতে, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোয় অত্যাধুনিক স্ক্যানার, স্মার্ট ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং এআইভিত্তিক বোমা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তিবিদ ও নিরাপত্তাকর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
তাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশও উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। অন্যথায় প্রযুক্তিগত দুর্বলতা দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

