বৈশাখী আনন্দে মেতে উঠুক সোনামণিরা

তারিক রহমান

বৈশাখী আনন্দে মেতে উঠুক সোনামণিরা

বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখ এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় আমাদের গ্রামবাংলা। প্রকৃতির বুক জুড়ে নেমে আসে এক অনন্য উচ্ছ্বাস, নতুন সূর্যের আলো যেন ধুয়ে-মুছে দেবে পুরোনো দিনের সব ক্লান্তি-অবসাদ।

বসন্তের হালকা বাতাসে যখন বিদায় ঘণ্টা, চারদিকে নতুন দিনের আহ্বান শোনা যায়, তখনই বাঙালির প্রাণে বাজতে শুরু করে সেই চিরচেনা ডাক—‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বাংলা নববর্ষ মানেই নতুনকে বরণ করা, পুরোনোকে বিদায় জানানো এবং নিজেদের সংস্কৃতির রঙে আবার নতুন করে রাঙিয়ে নেওয়া। এই উৎসব কেবল একটি দিন নয়; এটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, ঐতিহ্যের গর্ব এবং আনন্দের মিলনমেলা।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো উৎসবের মূল আনন্দটা শিশুদেরই। পহেলা বৈশাখে সাজ-পোশাক বড়দের জন্য যেমন, তেমনি ছোটদেরও। সারা দিনের আনন্দ-উৎসবের জন্য শিশুদেরও চাই নতুন পোশাক। রঙিন সব পোশাকে রঙিন প্রজাপতি হয়ে ওড়াউড়ি করলে তবেই না বর্ষবরণের সার্থকতা!

বৈশাখ মানেই শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। হই-হই রই-রই আনন্দ। একসময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল বৈশাখী মেলা—সবুজ খোলা মাঠে থরে থরে সাজানো বাতাসা, কদমা, মুড়ালি, গজা, বাদাম টানা, হাওয়াই মিঠাই, মিছরির তৈরি হাতি-ঘোড়া ও বিন্নি। এছাড়া থাকত মাটির পুতুল, নানারকম খেলনা, কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, বায়োস্কোপ. নাগরদোলা আর মা-বাবার হাত ধরে ছোট্ট শিশুর মেলা জুড়ে ছোটাছুটি। মেলা থেকে ফেরার পথে একহাতে নানারকম খাবার জিনিস, আর অন্যহাতে রঙবেরঙের খেলনা শোভা পেত। গ্রামেগঞ্জে টিকে থাকলেও এসব মেলা শহুরে জীবন থেকে এখন বলতে গেলে হারিয়ে যাচ্ছে। এই বৈশাখী মেলা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে শিশুদের, আর বায়নাও তাদেরই সবচেয়ে বেশি।

বাংলা নববর্ষের বিশেষ এই দিনটিতে বাড়ির ছোট সদস্যটিরও চাই রঙিন পোশাক। বৈশাখে শিশুকে কী পরাবেন, তা নির্ভর করবে আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর।

এ প্রসঙ্গে কয়েকজন মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেহেতু এটা গরমের দিন বা গ্রীষ্ম ঋতুর শুরু, তাই তারা সন্তানের আরামকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

মেয়েদের ক্ষেত্রে এই পোশাক হতে পারে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ। ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে পাঞ্জাবি, পায়জামা, ধুতি, টি-শার্ট বা ফতুয়া। চাইলে লুঙ্গিও পরাতে পারেন। এখন ফ্যাশনে সবাই চায় চলতি ধারা অনুসরণ করতে। তবে বড়দের ফ্যাশনে যত দ্রুত পরিবর্তন আসে, ছোটদের ক্ষেত্রে ততটা নয়। বড়দের পোশাকের কিছু কিছু ধারাই বরং ঢুকে পড়ে শিশুদের পোশাকে। তবে শিশুদের পোশাকের ‘ট্রেন্ড সেটার’ মূলত মায়েরা। মা যেমন পোশাক পরাতে চান, শিশু তেমন পোশাকই পরবে। একজন মা-ই বোঝেন তার শিশুকে কেমন পোশাক পরলে মানাবে, কোনটাতে তারা আরাম পাবে।

এই উৎসবকে ঘিরেই প্রতি বছরের মতো এবারও দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন আয়োজন নিয়ে এসেছে। দেশের পোশাকে দেশের উৎসব—এই ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনে তাদের আয়োজন ‘রঙে রঙে বৈশাখ’। ফ্যাশন হাউসগুলো বসনে ও নানা সামগ্রীতে বাঙালির উৎসব, শিল্প, ঐতিহ্য এবং সমকালীন ফ্যাশনের রঙিন সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা করে থাকে।

শিশুর বৈশাখী পোশাক এখন দেশের প্রায় সব শপিং মল, বুটিক হাউস এবং স্থানীয় বাজারেই সহজলভ্য। ঢাকার জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড, যেমন আড়ং, ইয়েলো, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, লা রিভ, কে ক্র‍্যাফট, সারা লাইফস্টাইল প্রতিবছরই শিশুদের জন্য বিশেষ বৈশাখী কালেকশন নিয়ে আসে। এছাড়া ছোট উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বুটিকগুলোয়ও পাওয়া যায় ইউনিক ও এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পোশাক, যা অনেক সময় ভিন্নতা খোঁজা ক্রেতার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এখন এই পোশাকের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম শপ বা ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে অর্ডার করা যায়।

ছোটদের পোশাক কেনার আগে খেয়াল রাখা জরুরি

* ডিজাইন যতই সুন্দর হোক, কাপড় যেন নরম ও আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সুতি বা খাদি কাপড় বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।

* শিশুরা দ্রুত বড় হয়, তাই একটু ঢিলেঢালা পোশাক কিনলে বেশি দিন ব্যবহার করা যায়।

* গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা রঙের পোশাক কিনুন। পোশাকে ভারী কাজ বা বেশি লেয়ার এড়িয়ে চলুন।

* পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি, টিপ, স্যান্ডেল বা গামছা নিলে পুরো সাজটি বেশি আকর্ষণীয় হয়।

* বোতাম বা চেইন যেন সহজ হয়। শিশুরা নিজেই যেন আরামে পরতে পারে এমন দেখে পোশাক কিনুন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...