কোরবানি ঈদ আসন্ন। ঈদ উপলক্ষে থাকে নানারকম প্রস্তুতি। আর এটা যেহেতু কোরবানির ঈদ, তাই মাংস সংরক্ষণের জন্য দরকার হয় ফ্রিজের। তাই ঈদ সামনে রেখে সবার আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঈদ ছাড়াও নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার করতে হয়, নইলে ফ্রিজের ভেতরে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। সেখান থেকে হতে পারে নানা ধরনের অসুখ। কিছু কৌশল ব্যবহার করলে সহজে কম সময়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করা যায়।
প্রতি বছর কোরবানির আগে কেউ কেউ নতুন ফ্রিজ কেনেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন কেনেন, কেউ আবার পুরোনো ফ্রিজ পরিষ্কার করেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ফ্রিজ পরিষ্কার করতে নরম স্পঞ্জ, পানি, ডিটারজেন্ট, ছোট তোয়ালে ও পুরোনো ব্রাশ লাগবে। তবে অবশ্যই সবকিছু যেন পরিষ্কার থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ফ্রিজ পরিষ্কার
- ফ্রিজ পরিষ্কার করার আগে প্রথমেই ফ্রিজের সব খাবার বের করতে হবে।
- পরিষ্কার করার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলে ভেতরের জমাটবাঁধা বরফগুলো গলে যাবে। এতে পরিষ্কার করা সহজ হবে।
- ফ্রিজের ট্রেগুলো খুলে ফেলুন। ফ্রিজের তাকগুলো খুলে বের করে নিন, এতে পরিষ্কার করা সহজ হবে।
- ট্রেগুলো কখনো গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না, কারণ ফ্রিজের মধ্যে এগুলো সবসময় ঠান্ডা থাকে। হঠাৎ গরম পানি দিলে চিড় ধরতে পারে। তাই ট্রেগুলো কুসুম গরম পানিতে ধুতে হবে।
- কুসুম গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। এক্ষেত্রে খুব কড়া কোনো ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং নরম স্পঞ্জ ব্যবহার করুন।
- পরিষ্কার করা হয়ে গেলে আলাদা করে আবার পানি দিয়ে ট্রেগুলো ধুয়ে ফেলুন। পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় ট্রেগুলো শুকাতে দিতে হবে।
- ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে স্পঞ্জ ভিজিয়ে ফ্রিজের ভেতরের অংশও পরিষ্কার করে ফেলুন। ডিটারজেন্ট মেশানো পানি ফ্রিজের ভেতরে স্প্রে করুন। এবার নরম স্পঞ্জ দিয়ে ফ্রিজের ভেতরের অংশও পরিষ্কার করে নিন। তারপর পরিষ্কার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ভালোভাবে মুছতে হবে। সবশেষে নরম কাপড় দিয়ে ভেতরের অংশ মুছে ফেলুন।
- ফ্রিজের বাইরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগার মেশানো পানি ব্যবহার করুন। সেই পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে বাইরের অংশ পরিষ্কার করে, তারপর মুছে ফেলুন।
- ফ্রিজের দরজার সঙ্গে থাকা রাবারটি সাধারণত আঠালো হয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে ভিনেগার মেশানো পানি ব্যবহার করুন এবং কাপড় ও ব্রাশের সাহায্যে পরিষ্কার করুন।
- ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য মাইক্রোফাইবারযুক্ত কাপড় ব্যবহার করাই ভালো। কারণ ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমে থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায় বেশি।
- ফ্রিজের ভেতরটা যখন পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে এবং ট্রেগুলোও শুকিয়ে যাবে, তখন সেগুলো আবার সেট করে নিন। সবশেষে ফ্রিজের ভেতরটা ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে ফ্রিজের সুইচ অন করুন। সুইচ দিয়ে চেক করুন ফ্রিজ ঠান্ডা হচ্ছে কি না, বা সব ঠিকঠাক আছে কি না।
প্রয়োজনীয় সতর্কতা
- নরমাল ফ্রিজের তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রির নিচে সেট করুন।
- খাবার এয়ারটাইট পাত্রে বা প্লাস্টিকের মোড়কে ঢেকে রাখুন। এটি গন্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে।
- ফ্রিজের দরজা বারবার খুলবেন না। ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে দরজা দ্রুত বন্ধ করুন।
- ফ্রিজে ওভারলোড করবেন না। এটি ঠান্ডা বাতাস চলাচল ব্যাহত করে এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়ায়।
- ফ্রিজকে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন। এটি ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।
নতুন ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে
- নতুন ফ্রিজ কেনার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে; যেমন ফ্রিজটি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী কি না। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্রিজগুলো মানে ভালো হয়, তাই দামও বেশি হয়। তবে দাম বেশি হলেও এমন ফ্রিজ কেনাই উচিত, কারণ এতে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে।
- ফ্রিজের কম্প্রেসরের মান জেনে নিন। কারণ এর ওপর নির্ভর করছে ফ্রিজটি কত ভালো কুলিং করতে পারবে।
- ফ্রিজের আকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আকার বেছে নিন। প্রয়োজন না হলে শখের বশে বড় ফ্রিজ কেনার দরকার নেই, কেননা বড় ফ্রিজে বিলও বেশি আসে।
- ফ্রিজের ধারণক্ষমতা সম্পর্কে জেনে নিন এবং ফ্রস্ট নাকি নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ কিনতে চান, তা ভেবে নিন। ফ্রস্ট ফ্রিজে বরফ জমে এবং নন-ফ্রস্ট ফ্রিজে বরফ জমে না।
- অবশ্যই ভালো কোনো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনবেন। এতে ঠকার আশঙ্কা থাকবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

